সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
রাজিব একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরির চেষ্টা করছেন।
তবে প্রচলিত মজুরি কাঠামোতে চাকরি করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পেতে অসমর্থ হন। অন্যদিকে পুঁজি না থাকায় তার পক্ষে ব্যবসা
করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই বর্তমানে তিনি অনেকাংশে হতাশাগ্রস্ত।
- ক)(1)
অপুষ্টি কী?
- খ)(2)
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
রাজিবের বিষয়টি কোন ধরনের সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা কী হতে পারে? তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত শারীরিক অবস্থাকে অপুষ্টি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাল্যবিবাহ বলতে সাধারণত রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়সের (বাংলাদেশে মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর) পূর্বে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকার বিবাহ সম্পন্ন হওয়াকে বোঝায়। এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং নানা সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাজিবের বিষয়টি 'বেকারত্ব' বা 'শিক্ষিত বেকারত্ব' সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
কর্মক্ষম, কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এবং প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও যখন কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত কাজ লাভে ব্যর্থ হয়, তখন সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজিব একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং প্রচলিত মজুরি কাঠামোতেই চাকরি করতে আগ্রহী। তা সত্ত্বেও তিনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না এবং আর্থিক পুঁজি না থাকায় ব্যবসাও করতে পারছেন না। ফলে তিনি হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন। যোগ্যতা ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মহীন থাকার এই পরিস্থিতি স্পষ্টতই শিক্ষিত বেকারত্বের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বেকারত্ব ও হতাশার সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী বহুমুখী পেশাগত ভূমিকা পালন করতে পারেন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং: বেকারত্বের কারণে রাজিব যে তীব্র হতাশায় ভুগছেন, সমাজকর্মী তাকে কাউন্সেলিং প্রদানের মাধ্যমে হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবেন।
২. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ: প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক কর্মবাজারের উপযোগী কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তিগত বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে তাকে উৎসাহিত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন।
৩. তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান: বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে রাজিবকে উপযুক্ত কাজের সন্ধান পেতে সহায়তা করতে পারেন।
৪. সম্পদ সংযোগ ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা: যেহেতু পুঁজির অভাবে রাজিব ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না, তাই সমাজকর্মী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ বা তহবিলের ব্যবস্থা করতে পারেন।
৫. আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণ: চাকরির ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ ও কুটির শিল্প বা সেবামূলক ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনা তৈরিতে সমাজকর্মী দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।
অতএব, একজন সমাজকর্মী মানসিক সহায়তা, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের কার্যকর সংযোগ ঘটিয়ে রাজিবের মতো যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও