সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রাহেলার বিয়ে হয় তিন বছর আগে। তার দিনমজুর স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যায়। সন্তানদের নিয়ে তার কষ্টে দিন কাটে। এরপর স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে কিছু টাকা নিয়ে সে হাঁস-মুরগীর খামার গড়ে তোলে। অন্যদিকে অভাবী সখিনা রাহেলার। মত টাকা নিয়ে শাকসবজির বাগান করে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করছে। তাদের সন্তানেরা স্কুলে লেখাপড়া করছে।
- ক)(1)
সরকারি সংস্থা কী?
- খ)(2)
বৃক্ষ নিধনের ফলে কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বেসরকারি সংস্থার যে কার্যক্রম প্রতিফলিত হয়েছে তা। ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গ্রামীণ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে বেসরকারি সংস্থা কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারি সংস্থা হলো রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত এমন প্রতিষ্ঠান যা জনগণের কল্যাণ ও সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কাজ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃক্ষ নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, ভূমিক্ষয়, মরুকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের (যেমন—বন্যা, ঘূর্ণিঝড়) প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, যা মানবজাতি ও প্রাণিকূলের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও-র (NGO) ক্ষুদ্রঋণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম প্রতিফলিত হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থাগুলো গ্রামীণ দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ ও পরামর্শমূলক সেবা প্রদান করে থাকে। উদ্দীপকে দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর অসহায় রাহেলা এবং দরিদ্র সখিনা একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে যথাক্রমে হাঁস-মুরগির খামার ও শাকসবজির বাগান গড়ে তোলে। এই অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে তারা নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করেছে এবং পরিবারকে সচ্ছল করে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এটি এনজিও-র প্রত্যক্ষ ক্ষুদ্রঋণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেরই বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক দিক থেকে নির্ভরশীল ও অবহেলিত ছিল। এনজিওগুলো তাদের জামানতবিহীন সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। উদ্দীপকে রাহেলা ও সখিনা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে হাঁস-মুরগির খামার ও সবজি চাষের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।
তাছাড়া, এনজিওগুলো শুধু ঋণই দেয় না, বরং নারীদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (যেমন—হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই, হস্তশিল্প, মৎস্যচাষ ইত্যাদি) প্রদান করে তাদের দক্ষতা বাড়ায়। এর ফলে নারীরা পরিবারে আর্থিক অবদান রাখতে পারে, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তৈরি হয়। পরিবারের সচ্ছলতা নিশ্চিত হওয়ার কারণে তারা সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতে পারে। সুতরাং, গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও