জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
NADP কী?
- খ)(2)
ফার্মেন্টেশন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্গত ‘X’ এর উৎস বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
প্রকৃতিতে Y আত্তীকরণ প্রক্রিয়াটির তাৎপর্য লিখ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NADP-এর পূর্ণরূপ হলো Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate; এটি কোষে ইলেকট্রন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রাহক একটি গুরুত্বপূর্ণ কো-এনজাইম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় একটি জটিল জৈব যৌগ (প্রধানত কার্বোহাইড্রেট) ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট প্রভৃতি অণুজীবে উপস্থিত নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে অসম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের সহজ সরল জৈব অ্যাসিড বা অ্যালকোহল ও গ্যাস উৎপন্ন করে, তাকে ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন বলে। যেমন—ইস্টের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক নির্ভর অধ্যায়ে নির্গত ‘X’ গ্যাসটি হলো অক্সিজেন ()।
সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের প্রধান উৎস হলো পানি (), যা নিম্নোক্ত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত:
১. রবিন হিল ও স্ক্যারিসব্রিক (১৯৩৭)-এর পরীক্ষা: তাঁদের মতে, ক্লোরোপ্লাস্টে হাইড্রোজেন গ্রাহক ও পানির উপস্থিতিতে আলোর সহায়তায় অক্সিজেন নির্গত হয়। এই বিক্রিয়ায় পানি বিশ্লেষিত হয়ে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, যাকে পানির ফটোলাইসিস বলা হয় ()।
২. ভ্যান নীল (১৯৩১)-এর মতবাদ: বেগুনি ও সবুজ সালফার ব্যাকটেরিয়ায় সালোকসংশ্লেষণের সময় ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে উপজাত হিসেবে সালফার () মুক্ত হয়, অক্সিজেন নয়। এর মাধ্যমে তিনি মত দেন যে, সাধারণ সবুজ উদ্ভিদে পানির হাইড্রোজেন -কে বিজারিত করে এবং পানি জারিত হয়ে তৈরি করে।
৩. রুবেন ও কামেন (১৯৪১)-এর তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ () পরীক্ষা: তাঁরা উদ্ভিদে স্বাভাবিক কার্বন ডাই-অক্সাইড () এবং তেজস্ক্রিয় আইসোটোপযুক্ত পানি () সরবরাহ করে দেখেন যে নির্গত অক্সিজেনে উপস্থিত। পক্ষান্তরে, তেজস্ক্রিয় কার্বন ডাই-অক্সাইড () এবং স্বাভাবিক পানি () সরবরাহ করলে নির্গত অক্সিজেন স্বাভাবিক () হয়।
সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকের নির্গত ‘X’ বা অক্সিজেনের একমাত্র উৎস হলো পানি ()।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘Y’ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (), যা অন্ধকার অধ্যায়ে রাসায়নিক শক্তির সহায়তায় জৈব যৌগ বা কার্বোহাইড্রেটে রূপান্তরিত হয়। প্রকৃতিতে এই আত্তীকরণ বা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্য উৎপাদন ও শক্তির সঞ্চয়: প্রকৃতিতে উদ্ভিদজগৎ আত্তীকরণের মাধ্যমে গ্লুকোজ তথা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। পৃথিবীর সকল প্রাণী ও অসবুজ উদ্ভিদ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।
২. গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা: জীবের শ্বসন প্রক্রিয়া ও জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত হয়। উদ্ভিদ আত্তীকরণ প্রক্রিয়ায় তা গ্রহণ করে পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস ইফেক্টের ঝুঁকি কমায়।
৩. জীবজগতে শক্তিপ্রবাহ: সৌরশক্তি রাসায়নিক স্থিতিশক্তি হিসেবে শর্করায় আবদ্ধ হয়, যা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সকল ট্রফিক লেভেলে পরিবাহিত হয়।
৪. মানব সভ্যতার কাঁচামাল ও জ্বালানি: উদ্ভিদজাত কাঠ, বস্ত্র, ওষুধ, রাবার, তন্তু এবং অতীতে সঞ্চিত জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস)—সবই মূলত কার্বন আত্তীকরণের সুদূরপ্রসারী ফল।
অতএব, সমগ্র জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রক্ষা, পুষ্টিচক্রের সচলতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৃতিতে ‘Y’ বা কার্বন ডাই-অক্সাইড আত্তীকরণ প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও