ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনা প্রবাহের কারণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে ব্যাংকটি তার সুদের হার ১% বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সুদের হার বৃদ্ধি করার পরও মুদ্রাস্ফীতিনিয়ন্ত্রণে না আসায় ব্যাংকটি ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু খাত নির্দিষ্ট করে দেয়। যার ফলে বাজারেস্থিতিশীলতা আসে।

  1. ক)

    নিকাশ ঘর কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমত কোন ধরনের সংখ্যাত্বক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপটির যৌস্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকাশ ঘর (Clearing House) হলো এমন একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা স্থান, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সদস্যভুক্ত তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের পরস্পরের মধ্যকার আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে এবং অন্য কোনো আর্থিক উৎস থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপযুক্ত জামানতের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে সম্ভাব্য দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। কোনো বিকল্প না থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ ভরসাস্থল হিসেবে দাঁড়ায় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 'ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমত সংখ্যাত্মক বা পরিমাণগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy) ব্যবহার করেছে।

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সদস্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে বা তাদের প্রথম শ্রেণির বিল বাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যা ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম প্রচলিত সংখ্যাত্মক পদ্ধতি।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সুদের হার ১% বৃদ্ধি করে। ব্যাংক হার বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের খরচ বেড়ে যায়, ফলে তারা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়ায়। এর ফলে ঋণ গ্রহণ হ্রাস পায় এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়। সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত প্রথম পদক্ষেপটি ছিল ব্যাংক হার নীতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপটি—অর্থাৎ 'ঋণের বরাদ্দকরণ নীতি' বা খাতভিত্তিক ঋণ নিয়ন্ত্রণ—অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক ছিল।

    ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত বা নির্বাচকমূলক পদ্ধতির মধ্যে ঋণের বরাদ্দকরণ নীতি (Rationing of Credit) অন্যতম। এ পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ না কমিয়ে বা সুদের হার সব ক্ষেত্রে এক না রেখে সুনির্দিষ্ট কিছু অগ্রাধিকারমূলক খাতে ঋণ প্রবাহ চালু রাখে এবং অনুৎপাদনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে সুদের হার ১% বৃদ্ধি করেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। কারণ কেবল সুদের হার বৃদ্ধি করলে অনেক সময় উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা ফটকাবাজি বন্ধ হয় না। এমতাবস্থায় ব্যাংকটি ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু খাত নির্দিষ্ট করে দেয়। এর মাধ্যমে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের অপব্যবহার বন্ধ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উৎপাদনশীল খাতে অর্থের প্রবাহ বজায় থেকেছে, ফলে সামগ্রিক সরবরাহ না কমে বাজারে অর্থের অতিরিক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

    অতএব, অর্থনীতিতে সামগ্রিক ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট খাতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের এ পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন