বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এক সময়ের ডাকসাইটে জমিদার নারায়ণ চৌধুরী প্রজ্ঞা ও প্রতিভায় ছিলেন সবারশীর্ষে। তাঁর জীবনের অর্জিত সম্পদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সন্তানদের মানুষকরেছেন তিনি। ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে ভালো অবস্থানেরয়েছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বাবার খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় নেই তাঁদের কারও। বার্ধক্যেরএই সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি বৃদ্ধাশ্রমেও যাননি সন্তানদের সম্মানের কথা ভেবে।এখন তাঁর সময় কাটে নিজের বাড়িতে একেবারে একা একা।

  1. ক)

    ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    ‘শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের কোন দিকটির মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘সৃষ্টিকর্ম সর্বদা মূল্যবান, সৃষ্টিকর্তা নয়’- উদ্দীপক ও ‘সোনার তরী’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি’- উক্তিটির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নিজের সৃষ্টি চিরস্থায়ী হলেও ব্যক্তি-মানুষ হিসেবে তার অনিবার্য বিলীন হওয়ার চিরন্তন বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক তাঁর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো সমস্ত সোনার ধান তরীটিতে তুলে দিতে পেরেছেন। কিন্তু সেই তরীটি কেবল সোনার ধান বা কর্মকেই গ্রহণ করেছে, স্থান সংকুলান না হওয়ায় কৃষককে ফেলে রেখে চলে গেছে। এর প্রতীকী অর্থ হলো— মহাকালের তরীতে মানুষের সৃষ্টিকর্ম স্থান পায়, কিন্তু নশ্বর রক্তমাংসের মানুষ বা সৃষ্টিকর্তা মহাকালের গর্ভে বিস্মৃত ও বিলীন হয়ে একাকী পড়ে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীর সাথে ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের জীবনের পরম প্রাপ্তি বা সৃষ্টি অপরের হাতে সমর্পণ করে নিজেকে নিঃস্ব, উপেক্ষিত ও একাকী অবস্থায় আবিষ্কার করার দিকটির গভীর মিল রয়েছে।

    ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক তাঁর রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে সোনার ধান ফলিয়েছেন। কিন্তু যখন সোনার তরী এলো, তখন সেই তরী ধান বা ফসলটুকুই তুলে নিল; কৃষকের নিজের সেখানে কোনো ঠাঁই হলো না। কৃষক শূন্য নদীর তীরে একাকী পড়ে রইলেন।

    উদ্দীপকের নারায়ণ চৌধুরীও তাঁর জীবনের সমস্ত অর্জিত সম্পদ ও শ্রম উজাড় করে দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন। তাঁর সেই সন্তানেরা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু শেষ বয়সে এসে নারায়ণ চৌধুরী একা ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন। তাঁর সন্তানরা তাঁর খোঁজ নেওয়ার সময় পায় না। কৃষকের সোনার ধান যেমন তরী নিয়ে গেছে কিন্তু কৃষককে নেয়নি, তেমনি নারায়ণ চৌধুরীর মানুষ করা সন্তানেরা নিজেদের সমৃদ্ধ জীবন পেলেও বৃদ্ধ পিতাকে নিঃসঙ্গ ফেলে রেখেছে। এই নিঃস্বতা ও উপেক্ষিত একাকীত্বের দিক থেকেই নারায়ণ চৌধুরীর সাথে কবিতার কৃষকের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘সৃষ্টিকর্ম সর্বদা মূল্যবান, সৃষ্টিকর্তা নয়’- উদ্দীপক এবং ‘সোনার তরী’ কবিতার রূপকার্থ ও জীবনবাস্তবতার নিরিখে মন্তব্যটি যথার্থ ও সত্য।

    ‘সোনার তরী’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবজীবনের এক অন্তর্নিহিত ও দার্শনিক সত্য উন্মোচন করেছেন। মানুষ কঠোর শ্রম ও সাধনায় সমাজে নানাবিধ সৃষ্টিকর্ম রেখে যায়। মহাকাল সেই সৃষ্টিকর্মকে সাদরে বরণ করে নেয়, কারণ তা মানবজাতির কল্যাণে আসে। কিন্তু রক্তমাংসের ক্ষণস্থায়ী সৃষ্টিকর্তাকে মহাকাল ধরে রাখে না; একসময় সে নশ্বরতার নিয়মে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। তরীতে কেবল কৃষকের সোনার ধান স্থান পায়, কৃষক নিজে শূন্য তীরে পড়ে থাকে।

    উদ্দীপকেও এই চিরন্তন সত্যটি প্রতিফলিত হয়েছে ভিন্ন এক পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে। নারায়ণ চৌধুরী তাঁর সর্বস্ব দিয়ে সন্তানদের সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন— অর্থাৎ তাঁর সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ ‘সৃষ্টি’ হলো তাঁর সন্তানেরা। কিন্তু সন্তানরা সফল হলেও সেই সফলতার মূল কারিগর বৃদ্ধ পিতার খবর আর কেউ রাখে না। তাঁর ত্যাগের ফসল সমাজ ও সন্তানেরা ভোগ করছে, অথচ পিতা পড়ে আছেন নিজের ঘরে একান্ত নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

    সুতরাং দেখা যায়, মহাকাল হোক কিংবা ব্যক্তিসমাজ— সৃষ্টির গুরুত্বই প্রাধান্য পায়, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তি-মানুষ অবহেলিত ও বিস্মৃত হয়ে যায়। তাই ‘সোনার তরী’ কবিতা এবং উদ্দীপকের আলোকে আলোচ্য মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন