পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
৩ জুন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
কী উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছল-১ এ কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ছক-২ এ কোন আইনে কথা বলা হয়েছে? উক্ত আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতবর্ষ বিভাজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য যে রূপরেখা বা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তাকে '৩ জুন পরিকল্পনা' বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল।
তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মুসলিম লীগের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা, মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থরক্ষা এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো প্রকার বিদ্বেষভাব পোষণ না করে তাদের অধিকার রক্ষা করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ এ ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) কথা বলা হয়েছে।
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশে 'দ্বৈত শাসন' (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন। এই আইনের অধীনে প্রাদেশিক বিষয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: 'সংরক্ষিত বিষয়' (Reserved Subjects) এবং 'হস্তান্তরিত বিষয়' (Transferred Subjects)। সংরক্ষিত বিষয়গুলো (যেমন—আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি রাজস্ব, বিচার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; ছকে উল্লিখিত বিষয়বণ্টনটি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কাঠামোর আদলে প্রদর্শিত) গভর্নরের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো এবং হস্তান্তরিত বিষয়গুলো (যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি) নির্বাচিত ভারতীয় মন্ত্রীদের দায়িত্বে অর্পণ করা হতো। উদ্দীপকের ছক-১-এ এই সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয়ের বিভাজনকে নির্দেশ করায় এটি নিশ্চিতভাবেই ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকে তুলে ধরেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-২ এ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে। উক্ত ছকে উল্লিখিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠা ছিল এই আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' প্রবর্তন করা হয়। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও বিতর্কিত।
তাত্ত্বিকভাবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়াবলীর দায়িত্ব নির্বাচিত মন্ত্রীপরিষদের হাতে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা আইনসভার নিকট দায়ী ছিলেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে সীমাহীন স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা, বিশেষ ক্ষমতা এবং ভেটো ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছিল। গভর্নররা মন্ত্রীদের পরামর্শ উপেক্ষা করে আইন প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনা করতে পারতেন, এমনকি মন্ত্রীপরিষদ ভেঙে দেওয়া বা জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতাও তাদের হাতে ছিল। ফলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু এই আইনকে "এমন একটি যন্ত্র যার সবটাই ব্রেক, কোনো ইঞ্জিন নেই" বলে অভিহিত করেন।
সুতরাং বলা যায়, ১৯৩৫ সালের আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেও গভর্নরদের ব্যাপক হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্বের কারণে বাস্তবে এটি অর্থহীন এবং অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও