বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

লাবণীর বিয়ে। তার বাবা বলল, 'ছেলে পক্ষ এত ভালো যে, তারা কিছুই চায় না। কিন্তু আমার মন মানে না। এতবড়ো বাড়িতে তোকে খালি হাতে পাঠাই কী করে। তাই ভাবছি- যত ইলেকট্রনিক্স লাগে, সব তোর সঙ্গে পাঠাব।' লাবণী দৃঢ় কণ্ঠে বলল, 'না। আমার বিয়েটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাক, বাবা।'

  1. ক)

    কল্যাণীর বিয়ের গহনাগুলো কোন আমলের?

    (1)
  2. খ)

    'ছোটোদের সঙ্গে সে অনায়াসে এবং আনন্দে ছোটো হইয়া গিয়াছিল।'- উক্তিটির তাৎপর্য বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বাবা চরিত্রের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ সেনের তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের লাবণী 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কল্যাণীর বিয়ের গহনাগুলো পিতামহীদের আমলের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে বিয়ের ভাঙনের পর কল্যাণীর নিজেকে দেশসেবা ও শিশুদের শিক্ষাদানের মহান ব্রতে উৎসর্গ করার আনন্দময় রূপটি প্রকাশ পেয়েছে।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের সাথে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণী আজীবন অবিবাহিত থাকার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে এবং মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করে। সেখানে ছোট ছোট শিশুদের পড়ানোর সময় সে তাদের সরলতার সাথে একাত্ম হয়ে যেত। শিশুদের নিষ্পাপ সান্নিধ্যে সে অতীত জীবনের বেদনা ভুলে সহজ, স্বাভাবিক ও আনন্দময় মন নিয়ে তাদের খেলার ও শিক্ষার সাথি হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বাবার মানসিকতার সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ সেনের আত্মমর্যাদাবোধ ও বলিষ্ঠ চরিত্রের সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

    'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ সেন ছিলেন একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা এবং নীতিবান পিতা। তিনি বরপক্ষের অন্যায় দাবি কিংবা অপমান মুখ বুজে সহ্য করেননি। অনুপমের মামা যখন বিয়ের আসরে কল্যাণীর গা থেকে খুলে নেওয়া গহনার খাঁটিত্ব যাচাই করে তাঁর পরিবারকে অপমান করেন, তখন শম্ভুনাথ সেন কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া বিয়ে ভেঙে দিয়ে মেয়ের আত্মসম্মান রক্ষা করেন। তিনি কোনো হীনম্মন্যতায় ভোগেননি।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের পিতা বরপক্ষ কিছু না চাওয়া সত্ত্বেও সামাজিক প্রদর্শনপ্রিয়তা ও মানসিক দুর্বলতার কারণে খালি হাতে মেয়েকে পাঠাতে চান না। তিনি নিজের থেকেই প্রচুর ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উপহার দেওয়ার কথা ভাবেন। উদ্দীপকের বাবার চরিত্রটিতে তথাকথিত সামাজিক প্রথার কাছে নতিস্বীকার ও মানসিক দীনতা দেখা যায়, যা শম্ভুনাথ সেনের আপসহীন আত্মমর্যাদাবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের লাবণী 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর যৌতুকবিরোধী চেতনার একটি দিককে ধারণ করলেও তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও জীবনসংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে না।

    উদ্দীপকে লাবণী বিয়েতে অযাচিত উপহার সামগ্রী পাঠানোর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছে। তার বাবার অতিরিক্ত সামগ্রী দেওয়ার ইচ্ছাকে সে সাহসিকতার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই দিক থেকে তার চেতনা 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ কল্যাণীও যৌতুক ও অসম্মানের মুখে মাথা নত করেনি।

    তবে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর ব্যক্তিত্ব আরও অনেক বেশি গভীর, ব্যাপক ও সংগ্রামী। বিয়ের আসরে বরপক্ষের নীচ মানসিকতা ও অবিশ্বাসের কারণে পিতা বিয়ে ভেঙে দিলে কল্যাণী তা সানন্দে মেনে নেয় এবং আজীবন অবিবাহিত থাকার কঠিন ব্রত গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে সে নিজেকে নারীশিক্ষা বিস্তার ও দেশমাতৃকার সেবায় সম্পূর্ণ উৎসর্গ করে এক আত্মনির্ভরশীল নারীর প্রতীকে পরিণত হয়। কল্যাণীর চরিত্রটি কেবল বিয়েতে উপহার বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক শোষণ ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে এক সামগ্রিক জাগরণ।

    উদ্দীপকের লাবণীর মধ্যে যৌতুকবিরোধী একটি প্রাথমিক মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ পেলেও কল্যাণীর মতো জীবনব্যাপী আত্মত্যাগ, স্বনির্ভরতা ও দেশসেবার মতো সুদূরপ্রসারী ভূমিকার কোনো প্রকাশ নেই। সুতরাং, লাবণী কল্যাণীর সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না— এই মতই যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন