‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' সংস্থাটি নাগরিকের অসঙ্গতিপূর্ণ আয় ও নীতিবহির্ভূত কাজ সম্পর্কে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে। সত্যতা নিশ্চিত হলে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে।

  1. ক)

    রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন করে কোন সংস্থা?

    (1)
  2. খ)

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? গঠন উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত 'X' সংস্থার ক্ষমতা ও কার্যাবলি মূল্যায়ন করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন করে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে এমনসব সংস্থাকে বোঝায়, যার সৃষ্টি, কাঠামো, ক্ষমতা ও কার্যাবলি কোনো দেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ বা বিধিবদ্ধ থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ আইনের দ্বারা নয়, বরং সংবিধানের বিধান দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (PSC), মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত 'X' সংস্থাটি দ্বারা 'দুর্নীতি দমন কমিশন' (দুদক)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের মাধ্যমে এই সংস্থাটি গঠিত হয়। এটি একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এর গঠন কাঠামো নিম্নরূপ:
    ১. দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান এবং অনধিক দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
    ২. প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি 'বাছাই কমিটি'র সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
    ৩. কমিশনারদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেন।
    ৪. তাঁদের কার্যকাল নিয়োগের তারিখ থেকে ৫ বছর এবং তাঁরা পুনঃনিয়োগের যোগ্য নন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সংস্থাটি নীতিবহির্ভূত কাজ ও আয় সম্পর্কে তদন্ত ও মামলা করে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের মূল দায়িত্বের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'X' সংস্থা অর্থাৎ 'দুর্নীতি দমন কমিশন' (দুদক)-এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর ক্ষমতা ও কার্যাবলির মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:

    ১. তদন্ত ও অনুসন্ধান: যে-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের ব্যাপক ক্ষমতা দুদকের রয়েছে। সংস্থাটি স্বপ্রণোদিত হয়েও তদন্ত পরিচালনা করতে পারে।
    ২. মামলা দায়ের ও পরিচালনা: তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংস্থাটি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ জজ আদালতে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করতে পারে।
    ৩. সম্পদ ক্রোক ও তল্লাশি: তদন্তের স্বার্থে দুদক সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তল্লাশির ক্ষমতা রাখে।
    ৪. দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম: সমাজে দুর্নীতির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেমিনার, গণশুনানি ও সততা সংঘ গঠনসহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে।
    ৫. আইনি সুপারিশ: দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে সরকারের নিকট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করে।

    পরিশেষে বলা যায়, একটি জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি অপরিহার্য। তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ থাকলে দুদকের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন