অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বাধীনতা অর্জনের পর 'ক' দেশে অনেক দ্রব্যসামগ্রীর প্রাপ্তি মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ কারণে জনগণকে অনেক উচ্চমূল্য দিতে হতো। তবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে এসব পণ্যের শিল্পায়ন হয়েছে। বর্তমানে দেশটির চাহিদার প্রায় ৮০% দ্রব্যসামগ্রী দেশে উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে কোনো কোনো দ্রব্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

  1. ক)

    শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    . ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' দেশে কী ধরনের শিল্পায়ন হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে শিল্পায়নের কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কতটুকু প্রাসঙ্গিক? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারখানাভিত্তিক ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মানবশ্রমের সমন্বয়ে প্রাথমিক দ্রব্যকে প্রক্রিয়াজাত করে অধিকতর উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো মালিকানা ও শ্রমের উৎস এবং ব্যবহৃত মূলধনের পরিমাণ। কুটির শিল্প মূলত পারিবারিক সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প মূলধনে এবং হস্তচালিত যন্ত্রপাতির সাহায্যে পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে, ক্ষুদ্র শিল্প তুলনামূলকভাবে বেশি মূলধনে বাইরের বেতনভুক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশে প্রধানত 'আমদানি বিকল্পায়ন শিল্পায়ন' (Import-Substituting Industrialization) বাস্তবায়িত হয়েছে, যা পরবর্তীতে 'রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে' (Export-Oriented Industrialization) রূপান্তরিত হয়েছে।
    উদ্দীপক অনুসারে, স্বাধীনতা অর্জনের পর 'ক' দেশ আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল, ফলে জনগণকে উচ্চমূল্যে বিদেশি পণ্য ক্রয় করতে হতো। পরবর্তীতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে সেই আমদানিকৃত দ্রব্যগুলো উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলা হয়। ফলে বর্তমানে দেশটির প্রায় ৮০% চাহিদা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দ্বারাই মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এটিই আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন। একই সাথে উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত আমদানি বিকল্পায়ন ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন কৌশল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এর যৌক্তিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:
    ১. আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস: স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরনির্ভরশীল ছিল। ওষুধ শিল্প, প্লাস্টিক, সিমেন্ট, ইস্পাত এবং হালকা প্রকৌশল খাতে আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে ওঠায় বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পেরেছে।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রপ্তানিমুখী উন্নয়ন: তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পগুলো মূলত রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে এবং ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্পায়নের ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়েছে।
    ৪. টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করে নিজস্ব শিল্পায়ন গতিশীল করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ এবং উদ্বৃত্ত রপ্তানি করার কৌশল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও প্রাসঙ্গিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন