উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
রসুলপুরের জামাল উদ্দীন একজন ফুল চাষী। তিনি ক্রেতার রুচির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন প্রকার ফুলের চাষ করেন। সেখানকার জমি ফুল চাষের জন্য উপযুক্ত। দেশে ও বিদেশে ফুলের চাহিদা থাকায় বিক্রিও বেড়ে যায়। ফলে অল্পদিনেই জামাল উদ্দীন ফুল চাষে লাভবান হন। তার দেখা-দেখি রসুলপুর গ্রামের অনেকে এখন ফুল চাষ শুরু করেছে। এভাবে রসুলপুর গ্রামের চাষীরা স্বাবলম্বী হতে শুরু করে।
- ক)(1)
বিপণন কী?
- খ)(2)
‘সকল ক্রেতাই ভোক্তা নয়’— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জামাল উদ্দীন কোন ধারণার প্রেক্ষিতে ফুল চাষ শুরু করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জামাল উদ্দীনের ফুল চাষের ভূমিকা কতটুকু? এর যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রেতাদের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবার ধারণা সৃষ্টি, মূল্য নির্ধারণ, প্রসার ও বণ্টন করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যিনি কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করেন তিনি ক্রেতা, কিন্তু যিনি সেই পণ্য নিজে চূড়ান্তভাবে ভোগ বা ব্যবহার করেন তিনি ভোক্তা।
একজন ক্রেতা পণ্য ক্রয় করে তা নিজে ভোগ করতে পারেন, আবার পুনরায় বিক্রয়ের জন্য বা অন্য কাউকে উপহার দেওয়ার জন্যও ক্রয় করতে পারেন। যখন কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বা পুনর্বিক্রয়ের জন্য পণ্য কেনেন, তখন তিনি ক্রেতা হলেও ভোক্তা নন। কেবল যখন ক্রেতা ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির জন্য নিজেই পণ্যটি ব্যবহার বা ভোগ করেন, তখনই তিনি একাধারে ক্রেতা ও ভোক্তা হন। তাই বলা হয়, 'সকল ক্রেতাই ভোক্তা নয়'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামাল উদ্দীন আধুনিক বিপণন ধারণার (Marketing Concept) প্রেক্ষিতে ফুল চাষ শুরু করেন।
বিপণন মতবাদ বা আধুনিক বিপণন ধারণার মূল কথা হলো ক্রেতা বা ভোক্তাদের প্রয়োজন, রুচি ও পছন্দ চিহ্নিত করে তাদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা। এই ধারণায় ভোক্তাই বিপণন কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে।
উদ্দীপকে জামাল উদ্দীন রসুলপুরে ফুল চাষের উপযোগী জমি থাকায় এবং দেশে-বিদেশে ফুলের চাহিদা দেখে ক্রেতাদের রুচি ও পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন প্রকার ফুলের চাষ করেন। ভোক্তাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের এই সিদ্ধান্তটি আধুনিক বিপণন মতবাদেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জামাল উদ্দীনের ফুল চাষের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে বহুমুখী কৃষিজাত পণ্যের বাণিজ্যিক চাষাবাদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফুল চাষ একটি উচ্চমূল্যের লাভজনক কৃষিশিল্প, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অপার সম্ভাবনাময়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ফুল চাষের মাধ্যমে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। দেশে ও বিদেশে ফুলের চাহিদা থাকায় তিনি তা বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছেন। বিদেশে ফুল রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। তদুপরি, তার সাফল্য দেখে রসুলপুর গ্রামের আরও অনেকে ফুল চাষ শুরু করেছে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলে রসুলপুরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুতরাং, জামাল উদ্দীনের ফুল চাষ শুধু তার ব্যক্তিগত সমৃদ্ধিই আনেনি, বরং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং রপ্তানি সম্ভাবনার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও