যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
এ জগৎ বিচিত্র, জটিল ও রহস্যময়। এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জন্ম হয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখা-প্রশাখা। জাগতিক সকল ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা মানুষের জন্মগত। কিন্তু সকল ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ মানুষের পক্ষে আবিষ্কার করা হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, সকল কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দান সম্ভব নয়।
- ক)(1)
বিশ্লেষণ কী?
- খ)(2)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ঘটনার কারণ জানার প্রচেষ্টা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল বিষয় বা ঘটনাকে তার মৌলিক উপাদানে বিভক্ত করে সহজ ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাই হলো বিশ্লেষণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো কম ব্যাপক বা সংকীর্ণ নিয়মকে অপেক্ষাকৃত অধিক ব্যাপক বা বৃহত্তর নিয়মের অধীনে নিয়ে আসাকে অন্তর্ভুক্তি বলা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো বিশেষ ঘটনার পেছনে কার্যকর সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে তাকে সার্বিক কোনো নিয়মের আওতায় এনে কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে যৌক্তিক যোগসূত্র স্থাপিত হয় এবং বিষয়টির কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ কারণেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঘটনার কারণ জানার প্রচেষ্টা যুক্তিবিদ্যার 'ব্যাখ্যা' (বিশেষ করে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা') বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।
কোনো জটিল, দুর্বোধ্য ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, বোধগম্য ও সুস্পষ্ট করে তোলাই হলো ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা দুই প্রকার—লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোনো বিষয়ের পেছনের অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণাকে বর্জন করে বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কারের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জাগতিক বিচিত্র ও জটিল ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং কারণ অনুসন্ধানের জন্মগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্যই হলো প্রকৃতির নিয়মাবলি ও ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা। উদ্দীপকের এই বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতির সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা', যার কিছু সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে—"সকল ঘটনার প্রকৃত কার্যকারণ মানুষের পক্ষে আবিষ্কার করা হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, সকল কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দান সম্ভব নয়।" এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
যুক্তিবিদদের মতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মৌলিক গুণ বা সরল অনুভূতি: চেতনার আদি অবস্থা বা সরল অনুভূতি (যেমন—মিষ্টতা, তিক্ততা, লাল বা নীল বর্ণ) কোনো জটিল মিশ্রণ নয়। তাই এদের অন্তর্নিহিত কারণ হিসেবে কোনো বৃহত্তর নিয়মের অধীন করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
২. চরম বা পরম নিয়মের ব্যাখ্যা অসম্ভব: প্রকৃতির মৌলিক নিয়মাবলি (যেমন—কার্যকারণ নিয়ম, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি)-কে কোনো বৃহত্তর নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ এরাই চরম নীতি।
৩. মনের অনুভূতি বা সংবেদন: সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার মতো মানসিক অবস্থাসমূহ একান্তই ব্যক্তিনিষ্ঠ। ফলে এদের বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারণ প্রমাণ করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দান সম্ভব নয়।
৪. বস্তুর স্বাতন্ত্র্য বা পরম সত্তা: কোনো বস্তুর মৌলিক সত্তা বা জড়ের চূড়ান্ত প্রকৃতির স্বরূপ এখনো সম্পূর্ণ উন্মোচিত নয়।অতএব, উদ্দীপকের বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত; বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানার্জনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলেও সব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও