সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পেশা শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
- খ)(2)
জনকল্যাণমুখিতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?'চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের কোন দিকটি বসবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজকর্ম পেশার মান উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত দিকগুলোর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পেশা' শব্দটি ফারসি শব্দ 'পেশাহ্' (Peshah) থেকে এসেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনকল্যাণমুখিতা বলতে জনগণের সামগ্রিক মঙ্গল, সমৃদ্ধি ও স্বার্থ সংরক্ষণের প্রতি গভীর অঙ্গীকারকে বোঝায়। সমাজকর্ম পেশার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জনকল্যাণমুখিতা। পেশাদার সমাজকর্ম কেবল ব্যক্তিগত মুনাফা বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করে না, বরং সমাজের সমস্যাগ্রস্ত, অনগ্রসর ও সুবিধাভোগী মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবেদিত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের 'মূল্যবোধ' (বা পেশাগত মূল্যবোধ) দিকটি বসবে।
মূল্যবোধ হলো সমাজ বা পেশা কর্তৃক স্বীকৃত এমন কিছু আদর্শ ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ ও কর্মকা্লকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকর্মের পেশাগত অনুশীলনে মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত উপাদানগুলো হলো: 'সকলের সমান সুযোগ', 'গণতান্ত্রিক অধিকার', 'ব্যক্তি স্বাধীনতা' এবং 'আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার'। এ উপাদানগুলো সমাজকর্মের স্বীকৃত ও সার্বজনীন মৌলিক মূল্যবোধের অংশ। সমাজকর্ম প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও সম্ভাবনায় বিশ্বাস করে এবং সাহায্যার্থীকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার (আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার), সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা ভোগ করার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধসমূহকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম পেশার মানোন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্যবোধগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত দিকগুলো হলো সমাজকর্মের মৌলিক মূল্যবোধ—সকলের সমান সুযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার। এগুলো সমাজকর্মকে অন্যান্য সাধারণ সেবামূলক কাজ থেকে একটি দক্ষ ও বিজ্ঞানসম্মত পেশা হিসেবে পৃথক করে এবং এর মান বৃদ্ধি করে।
১. ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা: সমাজকর্ম বিশ্বাস করে প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র এবং তার নিজস্ব মর্যাদা আছে। এই মূল্যবোধ অনুশীলনের ফলে সাহায্যার্থীর সাথে সমাজকর্মীর পেশাগত সম্পর্কের গুণগত মান উন্নত হয়।
২. আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা: সমাজকর্মী কখনো সাহায্যার্থীর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না। সাহায্যার্থী যাতে নিজের সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে নিজেই সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এটি পেশাগত সেবাকে কার্যকর ও টেকসই করে।
৩. সমান সুযোগ সৃষ্টি: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল মানুষকে সম্পদের সদ্ব্যবহার ও উন্নয়নের সমান সুযোগ দেওয়া সমাজকর্মের লক্ষ্য। বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা পেশার নৈতিক মানকে দৃঢ় করে।
৪. গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ: সেবা প্রদানে প্রতিটি ব্যক্তির মতামতের গুরুত্ব দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক চর্চা পেশাগত নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা। আর উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্যবোধগুলো নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ ও প্রয়োগের মাধ্যমেই সমাজকর্ম একটি উন্নত, নৈতিক ও কার্যকর পেশা হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও