সাহিত্য পাঠ • ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
“মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে। কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দিশালার ওই শিকল ভাঙা তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে, যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।”
- ক)(1)
বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় সুপারিনটেনডেন্টের নাম কী?
- খ)(2)
“মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে”— উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ভাবচেতনায় 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগের ছবিই মূর্ত হয়ে উঠেছে।”— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ফরিদপুর জেলখানার সুপারিনটেনডেন্টের নাম মিস্টার আমির হোসেন (আমির হোসেন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে"— উক্তিটি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপরিণামদর্শী ও জনবিরোধী ভুল সিদ্ধান্তসমূহকে নির্দেশ করে করা হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মানুষের ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করতে একের পর এক ভুল ও অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। বিশেষ করে, শান্তিকামী ও নিরস্ত্র ছাত্রদের মিছিলে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ধ্বংসকেই ত্বরান্বিত করেছিল। শাসকের এই অদূরদর্শী ও গণবিরোধী কার্যকলাপ দেখে বঙ্গবন্ধু মন্তব্য করেছিলেন যে পতনের মুখে পতিত শক্তি সবসময়ই ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি দেশের মুক্তির জন্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ, বন্দিশালায় বন্দি থাকা এবং চরম কৃচ্ছ্রসাধনের দিক থেকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার সঙ্গে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বাধীনতা ও মুক্তির সোপানে তরুণ বিপ্লবীদের প্রাণ বিসর্জন, বন্দিশালার শিকল ভাঙা এবং আত্মত্যাগের স্মৃতি অশ্রুজলে লেখা থাকার বিষয় বর্ণিত হয়েছে। মুক্তিকামী বিপ্লবীরা দেশ ও জাতির স্বার্থে হাসিমুখে নির্যাতন ভোগ করেন।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাতেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সহযোদ্ধারা মাতৃভাষা বাংলা ও জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তাঁরা নতি স্বীকার করেননি; বরং বন্দিশালার শিকল ভাঙার প্রত্যয়ে অবিচল থেকেছেন। সুতরাং, দেশের মুক্তির বেদিতে আত্মনিবেদন ও বন্দিশালায় বিপ্লবীদের অনমনীয় লড়াইয়ের চিত্র উদ্দীপক ও পাঠ্য রচনায় অভিন্ন সুরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের ভাবচেতনায় 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগের ছবিই মূর্ত হয়ে উঠেছে”— মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি দেওয়া বিপ্লবীদের রক্ত ও অশ্রুর কথা বলা হয়েছে। তাঁরা জাতির সুপ্রভাত দেখার আশায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, বন্দিশালার শিকল চূর্ণ করেছেন।
'বায়ান্নর দিনগুলো' আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিচারণায় দেখা যায়, বাঙালির রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা রক্ষা ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বঙ্গবন্ধু জেলে একটানা অনশন পালন করেন। অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন। নিজের জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে তিনি সহকর্মী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শোষণমুক্ত সকাল উপহার দিতে চেয়েছিলেন। জেলখানায় তাঁর এই ত্যাগের মহিমা উদ্দীপকের 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান' চরণের চেতনার সাথে সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়।
অতএব, উদ্দীপক ও রচনার মূল ভাববস্তু একসূত্রে গাঁথা— তা হলো জাতির মুক্তির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ। বঙ্গবন্ধুর জীবনের সেই সংগ্রামী ও আত্মোৎসর্গকারী রূপই উদ্দীপকের মর্মবাণীতে মূর্ত হয়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও