জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি নির্জীব, দৃঢ়, ভেদ্য আবরণ উদ্ভিদ কোষে থাকে। একটি সজীব, স্থিতিস্থাপক বৈষম্যভেদ্য আবরণ সকল জীব কোষে থাকে।

  1. ক)

    ক্রিস্টি কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্লোরোপ্লাস্টকে 'কোষের রান্নাঘর' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম আবরণটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আবরণের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেলের নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লিটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, এই ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি (cristae) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ক্লোরোপ্লাস্ট প্রধান ভূমিকা পালন করে। ক্লোরোপ্লাস্টে থাকা ক্লোরোফিল সূর্যালোকের ফোটন কণা শোষণ করে আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে এবং পরিবেশের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। যেহেতু কোষের যাবতীয় জৈব খাদ্য প্রস্তুতের কাজটি ক্লোরোপ্লাস্টে সম্পন্ন হয়, তাই ক্লোরোপ্লাস্টকে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর। নিচে এর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো:

    একটি পূর্ণাঙ্গ কোষপ্রাচীর সাধারণত তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত:
    ১. মধ্যপর্দা (Middle lamella): দুটি পাশাপাশি কোষের সংযোগস্থলে অবস্থিত স্তর। এটি প্রধানত পেকটিক অ্যাসিড ও অন্যান্য পেকটিন দিয়ে তৈরি।
    ২. প্রাথমিক প্রাচীর (Primary wall): মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন জমা হয়ে পাতলা প্রাথমিক প্রাচীর তৈরি করে।
    ৩. গৌণ প্রাচীর (Secondary wall): পরিণত কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ওপর লিগনিন, সুবেরিন ইত্যাদি জমা হয়ে তুলনামূলক পুরু ও শক্ত গৌণ প্রাচীর তৈরি হয় (ভাজক কোষে এটি থাকে না)।

    সুক্ষ্ম গঠন: কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান সেলুলোজ। প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলে একটি মাইসেলি, ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল এবং ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠিত হয়, যা কোষপ্রাচীরের মূল কঙ্কাল কাঠামো তৈরি করে। এছাড়া কোষপ্রাচীরে পিট বা কূপ এলাকা এবং প্লাজমোডেসমাটা সংযোগ বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আবরণটি হলো কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন কর্তৃক ১৯৭২ সালে প্রস্তাবিত 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' (Fluid Mosaic Model) সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।

    নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ:
    ১. ফ্লুইড (তরল) অংশ: এই মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লি মূলত একটি দ্বিস্তরী ফসফোলিপিড (phospholipid bilayer) দ্বারা গঠিত। লিপিড অণুগুলো তরল পদার্থের মতো গতিশীল এবং এদের ফ্যাটি এসিডের পুচ্ছ অংশগুলো নিজেদের মধ্যে এবং পার্শ্ববর্তী অণুর সাথে স্থান পরিবর্তন করে (flip-flop বা lateral diffusion প্রদর্শন করে)। এর ফলে সম্পূর্ণ লিপিড স্তরটি একটি দ্বিমাত্রিক তরলের মতো আচরণ করে।

    ২. মোজাইক অংশ: এই তরল লিপিড সমুদ্রের মাঝে বিভিন্ন প্রকার প্রোটিন অণু (প্রান্তীয়, অন্তর্নিহিত এবং সমন্বিত প্রোটিন) এমনভাবে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ও নিমজ্জিত থাকে, যা দেখলে মনে হয় মোজাইক করা মেঝেতে বিভিন্ন রঙের পাথর বসানো রয়েছে।

    অর্থাৎ, তরল লিপিড স্তরের উপর বা মাঝে প্রোটিন অণুগুলো মোজাইক নকশার মতো বিন্যস্ত থাকায় এবং এদের গতিশীল প্রকৃতির কারণে গবেষকদ্বয় এর নাম দেন 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল'। বিজ্ঞানীদের এই উপমাটি কোষঝিল্লির গাঠনিক ও কার্যগত বৈশিষ্ট্যকে অত্যন্ত নিখুঁত ও যৌক্তিকভাবে ফুটিয়ে তোলে। তাই এই মডেলটির নামকরণ সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন