‍ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ : পুঁজিবাধ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

পরস্পর বিরোধী দুই আদর্শের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিশ্বে নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়। বিশ্বের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। ঐতিহাসিকগণ এরূপ অবস্থাকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে তুলনা করেছেন।

  1. ক)

    SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    দাঁতাত বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আদর্শগত দ্বন্দ্ব পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    SEATO (সাউথ-ইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশন) ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দাঁতাত' (Détente) একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ 'উত্তেজনার প্রশমন' বা 'শিথিলকরণ'। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষত ১৯৭০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তীব্র বৈরিতা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির হ্রাস পেয়ে যে স্বাভাবিক ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তাকে 'দাঁতাত' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা 'ঠান্ডা লড়াই' (Cold War)-এর মিল রয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক-কমিউনিস্ট আদর্শের মধ্যে চরম মতাদর্শিক সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে পৃথিবী স্পষ্টত দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সময় উভয় পরাশক্তি নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ন্যাটো (NATO), ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact), সিয়াটো (SEATO), সেন্টো (CENTO)-র মতো সামরিক ও রাজনৈতিক জোট গঠন করে এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি হয়। উদ্দীপকের দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া, নতুন সংগঠন গঠন এবং চরম আতঙ্কের বর্ণনা সরাসরি এই স্নায়ুযুদ্ধকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত আদর্শগত দ্বন্দ্ব অর্থাৎ 'স্নায়ুযুদ্ধ' পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিকে গভীরভাবে এবং বহুমুখীভাবে প্রভাবিত করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    স্নায়ুযুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সামরিক জোট ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা: উভয় পরাশক্তি বিশ্বব্যাপী তাদের বলয় বাড়াতে ন্যাটো, ওয়ারশ প্যাক্ট, সিয়াটো প্রভৃতি সামরিক জোট গঠন করে। পারমাণবিক ও বিধ্বংসী অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বিশ্বকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছিল।
    ২. ছায়াযুদ্ধ (Proxy Wars): প্রত্যক্ষ যুদ্ধ এড়িয়ে দুই পরাশক্তি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রক্তক্ষয়ী প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩), ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আফগান সংকট উল্লেখযোগ্য। এর ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
    ৩. জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM): পরাশক্তিগুলোর ব্লকে যোগ না দিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকার লক্ষ্যে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো 'জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন' গড়ে তোলে।
    ৪. কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ও চরম আতঙ্ক: ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় পৃথিবী প্রায় পারমাণবিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল।
    ৫. বিশ্ব ব্যবস্থার রূপান্তর: অবশেষে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, যা এককেন্দ্রিক মার্কিন বিশ্বব্যবস্থার পথ উন্মোচন করে।

    অতএব, স্নায়ুযুদ্ধের মতাদর্শিক লড়াই শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পুরো বিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক রাজনীতি ও ভূরাজনীতির রূপরেখা নির্ধারণ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন