অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আরমান স্কুলের শিক্ষক। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপরদিকে, তার গ্রামের কৃষক রহিমুদ্দিন ও ব্যবসায়ী তাজুল আনন্দেই আছে কারণ রহিমুদ্দিন বেশি দামে ফসল বিক্রি করে এবার সে মহাজনের ধার শোধ করতে পারবে। তাই সে নতুন উদ্যমে আরও বেশি ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হয়েছে। অন্যদিকে তাজুল বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে এবং তার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেছে। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মৃদু মুদ্রাস্ফীতি ভালো। তবে মুদ্রাস্ফীতি যেন বেশি না হয় তার জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, অর্থ ও ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক।
- ক)(1)
CPI-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
পরোক্ষ কর মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতি রোধে করণীয়সমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
CPI-এর পূর্ণরূপ হলো Consumer Price Index (ভোক্তা মূল্যসূচক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকার যখন পণ্য ও সেবার ওপর পরোক্ষ কর (যেমন—ভ্যাট, আবগারি শুল্ক ইত্যাদি) আরোপ বা বৃদ্ধি করে, তখন উৎপাদন বা বিপণন খরচ বৃদ্ধি পায়। বিক্রেতারা বর্ধিত এই করের বোঝা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য দ্রব্যের বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে সামগ্রিক মূল্যস্তর বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি বা বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর ভিন্নমুখী প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
মুদ্রাস্ফীতির সময় অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্দীপকের শিক্ষক মি. আরমান হলেন নির্দিষ্ট আয়ের ব্যক্তি। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও তার আয় না বাড়ায় তাকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অর্থাৎ তার প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে উৎপাদক ও ব্যবসায়ী শ্রেণি লাভবান হয়। উদ্দীপকে কৃষক রহিমুদ্দিন তার উৎপাদিত ফসলের বেশি দাম পেয়ে লাভবান হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে ব্যবসায়ী তাজুল বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছে এবং ব্যাংক ঋণ শোধ করতে পেরেছে। এছাড়া ঋণগ্রহীতারা মুদ্রাস্ফীতিতে লাভবান হয় কারণ পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী কম মূল্যের অর্থ পরিশোধ করতে পারে। সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতি নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করলেও উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য লাভজনক হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহসহ মুদ্রাস্ফীতি রোধে কার্যকর করণীয়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উৎপাদন বৃদ্ধি: সামগ্রিক যোগান বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্তর কমে আসে। উদ্দীপকে কৃষক রহিমুদ্দিনের মতো অধিক ফসল উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান এবং শিল্প ও কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে।
২. অর্থ ও ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণ (আর্থিক নীতি): কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয় এবং জমার অনুপাত বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে মুদ্রা ও ঋণের সরবরাহ হ্রাস করতে পারে। এর ফলে জনগণের হাতে অর্থের পরিমাণ ও চাহিদা হ্রাস পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. রাজস্ব নীতির কার্যকর ব্যবহার: সরকার অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস করতে পারে এবং প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি করে জনগণের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা কমাতে পারে। এতে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়ে মূল্যস্তর স্থিতিশীল হয়।
৪. বাজার মনিটরিং ও মজুতদারি রোধ: অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও সিন্ডিকেট রোধে কঠোর নজরদারি ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
পরিশেষে, উদ্দীপকে বর্ণিত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থ ও ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সংকোচন ও বাজার তদারকির সঠিক সমন্বয়ই মুদ্রাস্ফীতি রোধে প্রধান সমাধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও