‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. জোসেফ ব্রিটিশ উপনিবেশিক অঞ্চলের একটি রাজনৈতিক দলের প্রখ্যাত নেতা। তিনি ঐ অঞ্চলের সকল জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁর দলের বার্ষিক সভায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন। তাঁর সুপারিশমালায় ঐ অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সাথে স্বাধীন অঙ্গরাজ্যসমূহের সম্পর্ক কী হবে বা সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ছিল না।

  1. ক)

    তিতুমীরের পূর্ণ নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. জোসেফের সুপারিশমালার সাথে 'তোমার পঠিত কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত বিষয়টির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের পূর্ণ নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিন্দু ও মুসলিমদের ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আদর্শের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করার রাজনৈতিক দর্শন।

    ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এর মূল কথা ছিল—ভারতবর্ষে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি; তাদের বিশ্বাস, সামাজিক রীতিনীতি ও ইতিহাস আলাদা। অতএব, তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র বা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা গঠন করা আবশ্যক। এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. জোসেফের সুপারিশমালার সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'-এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভারতের ভৌগোলিক দিক দিয়ে সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র (Independent States) গঠন করতে হবে এবং এর অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জোসেফও একটি দলের বার্ষিক সভায় জনগণের স্বার্থে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের ইঙ্গিত সংবলিত সুপারিশমালা পেশ করেছিলেন, যেখানে কেন্দ্রের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। লাহোর প্রস্তাবেও 'States' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রের রূপরেখা থাকলেও কেন্দ্র ও প্রদেশের সম্পর্ক পুরোপুরি সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। সুতরাং, উদ্দীপকের সুপারিশমালাটি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' (১৯৪০)। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রেক্ষাপটে লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

    প্রথমত, লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও জাতীয় সত্তার স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি মুসলমানদের সামনে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য এনে দেয়, যার পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    দ্বিতীয়ত, লাহোর প্রস্তাবের মূল বয়ানে উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কূটকৌশলে 'States' শব্দের পরিবর্তে 'State' করে একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথা ঘোষণা করেন, তথাপি লাহোর প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত চেতনার মধ্যেই পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

    বাঙালি নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি (যেমন- ১৯৫৪ সালের ২১ দফা ও ১৯৬৬ সালের ৬ দফা) উত্থাপন করেন। অবশেষে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাহোর প্রস্তাবের মূল দর্শনের ভিত্তিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

    অতএব, লাহোর প্রস্তাব ছিল বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন