পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রটিতে স্বাধীনতার প্রায় ২৩ বছর পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে পূর্বাঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলটি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে সাধারণ জনগণের উপর সামরিক বাহিনী লেলিয়ে দিলে বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ক)(1)
৬ দফা কে ঘোষণা করেন?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন জাতীয় নির্বাচনের মিল রয়েছে? তার ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনের ফলাফল উক্ত রাষ্ট্রের ভাঙ্গন ত্বরান্বিত করে- তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাষা আন্দোলন বলতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী আন্দোলনকে বোঝায়। ১৯৪৮ সালে শুরু হয়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং এর ফলেই বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন করে। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের বরাদ্দকৃত ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে (সংরক্ষিত নারী আসনসহ ১৬৭টি আসন)। অন্যদিকে, প্রাদেশিক পরিষদেও পূর্ব পাকিস্তানের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। এই বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে দ্ব্যর্থহীন রায় প্রদান করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের ভাঙন ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর মেনে নিতে পারেনি। তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ১৯৭১ সালের ৩ মার্চের জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিত করে দেয়।
এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর গণহত্যা (অপারেশন সার্চলাইট) শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। অতএব, নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অনড় চক্রান্তই পাকিস্তানের ভাঙন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অনিবার্য ও ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও