ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব মেহের সাভার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের সব ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের বিরূপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হয়। এমনকি তাদের কোনো প্রকার মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ভেতর অসন্তোষ ও ক্ষোভ কাজ করছে।

  1. ক)

    মাসলো প্রদত্ত প্রেষণা তত্ত্বের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রেষণা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব মেহের কোন প্রকার প্রেষণা পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনে জনাব মেহেরের কোন ধরনের প্রেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত হবে- উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্রাহাম মাসলো প্রদত্ত প্রেষণা তত্ত্বের নাম হলো 'চাহিদা সোপান তত্ত্ব' (Hierarchy of Needs Theory)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের লক্ষ্য অর্জনে স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসাহিত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে।

    প্রেষণা হলো কর্মীদের কার্যাবলিকে প্রভাবিত করার এমন এক কৌশল, যার মাধ্যমে তাদের কার্যদক্ষতা ও মানসিক শক্তির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এর ফলে কর্মীরা স্বেচ্ছায় ও আন্তরিকভাবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব মেহের 'আর্থিক প্রেষণা' পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    যেসব প্রেষণামূলক সুবিধা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থের সাথে সম্পৃক্ত এবং যার মাধ্যমে কর্মীদের বস্তুগত বা আর্থিক চাহিদার পরিতৃপ্তি ঘটে, তাকে আর্থিক প্রেষণা বলা হয়। যেমন—ন্যায্য বেতন, বোনাস, বাসস্থান বা যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মেহের সাভার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মচারীদের সব ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকেন। তিনি কর্মীদের কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে শুধু অর্থসংক্রান্ত সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করেছেন। তাই বলা যায়, তিনি আর্থিক প্রেষণা পদ্ধতির ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনে জনাব মেহেরের 'অনার্থিক প্রেষণা' পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।

    কর্মীদের মানসিক তৃপ্তি, কাজের নিরাপত্তা, সম্মান ও সন্তুষ্টি বিধানের জন্য অর্থ বহির্ভূত যেসকল সুযোগ-সুবিধা বা উপাদান প্রদান করা হয়, সেগুলোকে অনার্থিক প্রেষণা বলে। উত্তম কর্মপরিবেশ, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা ইত্যাদি অনার্থিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত। কেবল আর্থিক সুবিধাই কর্মীদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না; তাদের মানসিক সন্তুষ্টিও কাজের জন্য আবশ্যক।

    উদ্দীপকে জনাব মেহের কর্মীদের সব ধরনের আর্থিক সুবিধা দিলেও তারা বিরূপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়। তদুপরি, তাদের কোনো প্রকার মতামত প্রকাশের সুযোগও দেওয়া হয় না। ফলে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    অতএব, জনাব মেহেরের উচিত হবে কর্মস্থলে স্বাস্থ্যকর ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মীদের মতামত গুরুত্ব সহকারে শোনা এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এসব অনার্থিক প্রেষণামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই কর্মীদের ক্ষোভ দূর করে তাদের কাজে মনোযোগী ও সন্তুষ্ট করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন