পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
আব্দুর রহমান ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। সামাজিক কুসংস্কার ও অন্যায় এর বিরোধী তিনি ছিলেন সদস্য সোচ্চার। তিনি অত্যাচারী জমিদার ও মহাজনদের হাত থেকে নির্যাতিত কৃষকদের রক্ষার জন্য একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
- ক)(1)
তিতুমীরের পূর্ণনাম কী?
- খ)(2)
কাকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয় ও কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আব্দুর রহমানের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক নেতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে উদ্দীপকে যে নেতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তিতুমীরের পূর্ণনাম হলো সৈয়দ মীর নিসার আলী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজী শরীয়তুল্লাহকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির সৈয়দ আহমদ শহীদ উত্তর ভারতে যে জিহাদ ও সংস্কার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাংলায় অনুরুপভাবে ইসলামের মূল নীতিতে ফিরে আসার জন্য 'ফরায়েজী আন্দোলন' পরিচালনা করেছিলেন। উভয় নেতাই সমসাময়িক ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা এবং নিপীড়িত মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংস্কারবাদী আন্দোলন পরিচালনা করায় হাজী শরীয়তুল্লাহকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' আখ্যা দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আব্দুর রহমানের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক নেতা শহীদ তিতুমীরের (সৈয়দ মীর নিসার আলী) সাদৃশ্য রয়েছে।
তিতুমীর ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান সমাজ সংস্কারক এবং ব্রিটিশ ও জমিদারবিরোধী সংগ্রামী নেতা। তিনি বাংলার গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করার পাশাপাশি নীলকর ও অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের নির্যাতনের শিকার কৃষকদের সংঘটিত করেন। তাদের আত্মরক্ষার জন্য তিনি লাঠিয়াল ও তীরন্দাজদের সমন্বয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন এবং বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের আব্দুর রহমানও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের রক্ষা করতে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যা তিতুমীরের কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার সংগ্রামের পটভূমিতে শহীদ তিতুমীরের অবদান ও ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাদায়ী।
তিতুমীর কেবল একজন সমাজ সংস্কারকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শক্তি এবং তাদের দোসর অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তিনি সাধারণ কৃষক ও সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় বিখ্যাত 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করে ব্রিটিশদের আধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেন।
তিতুমীরের এই আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধ সংগ্রাম বাঙালি জাতির মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার প্রথম অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। তাঁর এই মুক্তিকামী চেতনা পরবর্তীকালে বাংলার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও