ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
আশিক রসুলপুরে ১০ জন শ্রমিক নিয়ে একটি বেকারি শুরু করে। তার আত্মবিশ্বাস, দূরদর্শিতা এবং কর্মীদের সাথে উত্তম আচরণের ফলে ব্যবসায়ে সফলতা আসে। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার বেকারিতে উৎপাদিত পণ্যের বাজার আশপাশের এলাকাতে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
- ক)(1)
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কী?
- খ)(2)
একজন নেতাকে দূরদর্শী হতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের নেতৃত্ব বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
নেতৃত্বের সাফল্যের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত গুণাবলিই কি যথেষ্ট বলে তুমি মনে করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা সব ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত রাখেন এবং অধস্তনদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নির্দেশ দ্বারা কাজ আদায় করেন, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, সুযোগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকে অনুধাবন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন নেতাকে দূরদর্শী হতে হয়।
দূরদর্শিতা হলো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে পূর্বানুমানের মাধ্যমে দেখার সক্ষমতা। ব্যবসায় বা প্রতিষ্ঠান সবসময় পরিবর্তনশীল পরিবেশের সম্মুখীন হয়। একজন নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সংকট থেকে রক্ষা করে এবং ভবিষ্যৎ সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে 'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব' (Democratic Leadership) বিদ্যমান।
যে নেতৃত্বশৈলীতে নেতা এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অধস্তন কর্মীদের সাথে আলোচনা করেন, তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশিক রসুলপুরে তার বেকারিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেন এবং কর্মীদের সাথে উত্তম আচরণ করেন। এতে কর্মীদের মনোবল ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধস্তনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সম্মিলিতভাবে পরিচালনার এ কৌশলটি স্পষ্টভাবেই গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নেতৃত্বের সাফল্যের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত গুণাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলোই চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য এককভাবে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে নেতা আশিকের আত্মবিশ্বাস, দূরদর্শিতা, কর্মীদের প্রতি উত্তম আচরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার মতো মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো একজন নেতার সাফল্যের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি তৈরি করে।
তবে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ও সামগ্রিক সাফল্যের জন্য আরও কিছু অপরিহার্য গুণাবলি প্রয়োজন। যেমন—
১. কারিগরি জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা: পণ্য উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।
২. যোগাযোগ দক্ষতা: প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা কর্মী, গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানোর যোগ্যতা।
৩. ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা: প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নতুন সুযোগ গ্রহণের জন্য পরিমিত ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকতে হয়।
৪. ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত গুণাবলি আশিককে প্রাথমিক সাফল্য এনে দিলেও প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখে টেকসই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রযুক্তিগত, পেশাগত ও পরিচালনাসংক্রান্ত অন্যান্য গুণের সমন্বয় আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও