ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনগণ যাতে ব্যাংক থেকে অধিক সেবা পেতে পারে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক। গ্রাহকদের পক্ষে ব্যাংকগুলো অর্থ আদায় ও পরিশোধ করছে। শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করছে, অর্থ ও সম্পদের নিরাপদ সংরক্ষণ করছে। এছাড়াও কত কাজ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা তদারক করে। বাংলাদেশ ব্যাংক লক্ষ করছে কতিপয় ব্যাংক তাদের মূল কাজের বাইরে গিয়ে শেয়ার বাজারে অধিক বিনিয়োগ করছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণ দিচ্ছে। যথাযথভাবে প্রভিশন সংরক্ষণ করছে না। তাই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্ত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

  1. ক)

    ব্যাংকিং কী?

    (1)
  2. খ)

    শাখা ব্যাংকিং বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ব্যাংকের উল্লিখিত কাজগুলো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাসেল-২ এর নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে- তুমি কী এ বক্তব্য সমর্থন করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাংকের সার্বিক উদ্দেশ্য অর্জন ও কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পরিচালিত সকল নিয়মমাফিক আর্থিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডকে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি প্রধান কার্যালয় বা মূল ব্যাংকের অধীনে দেশের ভেতরে বা বাইরে বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় শাখা খুলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তাকে শাখা ব্যাংকিং বলে।

    এ ব্যবস্থায় প্রতিটি শাখা স্বাধীন ব্যাংক নয়, বরং কেন্দ্রীয় বা প্রধান কার্যালয়ের নীতি ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বিস্তৃত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ব্যাংকের উল্লিখিত কাজগুলো হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের ‘প্রতিনিধিত্বমূলক বা গ্রাহকসেবামূলক গৌণ কাজ’ (Agency or Representative Functions)।

    বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত গ্রহণ ও ঋণদানের মতো প্রাথমিক বা মৌলিক কাজের পাশাপাশি গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিনিধি বা অছি (Trustee) হিসেবে বহুমুখী আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের পক্ষে অর্থ আদায় ও বিল পরিশোধ, শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয়, মূল্যবান দলিলপত্র ও সম্পদের নিরাপদ হেফাজত ইত্যাদি।

    উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পক্ষে অর্থ আদায় ও পরিশোধ করছে, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করছে এবং অর্থ ও মূল্যবান সম্পদের নিরাপদ সংরক্ষণ করছে। এই কাজগুলো মূলত গ্রাহকের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে ব্যাংকগুলো সম্পাদন করে। অতএব, এগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বমূলক বা এজেন্সিসংক্রান্ত গৌণ কার্যাবলি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, 'বাসেল-২ এর নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে'—আমি এ বক্তব্যটি সমর্থন করি।

    ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাসেল কমিটি অন ব্যাংকিং সুপারভিশন (BCBS) আন্তর্জাতিকভাবে ‘বাসেল-২’ (Basel-II) কাঠামো প্রণয়ন করে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসেল-২ কাঠামোর তিনটি মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ রয়েছে: ন্যূনতম মূলধন আবশ্যকতা (ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি ও পরিচালন ঝুঁকি মোকাবিলায় মূলধন ও প্রভিশন সংরক্ষণ), তত্ত্বাবধানমূলক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এবং বাজার শৃঙ্খলা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কতিপয় ব্যাংক তাদের মূল আমানত ও ঋণ কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে শেয়ারবাজারে মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে (বাজার ঝুঁকি বৃদ্ধি), অধিক ঝুঁকিপূর্ণ খাতে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দিচ্ছে (ঋণ ঝুঁকি বৃদ্ধি) এবং যথাযথভাবে প্রভিশন বা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করছে না। ব্যাংকগুলোর এই ধরনের আচরণ বাসেল-২ এর মূলধন পর্যাপ্ততা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ব্যাংকগুলোর এমন দায়িত্বহীন বিনিয়োগে গ্রাহকের আমানত চরম হুমকির মুখে পড়ে এবং আর্থিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

    এমতাবস্থায়, বাসেল-২ এর দ্বিতীয় স্তম্ভ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক (তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা) ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করা, অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া কিংবা সংশোধনমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দায়বদ্ধ। অতএব, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাসেল-২ এর নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ যথার্থ ও যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন