সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সহপাঠ প্রশ্ন

"বর্গি এল খাজনা নিতে মরল মানুষ কত। পুড়ল শহর, পুড়ল শ্যামল গ্রাম যে শত শত। হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তিসেনা, তাদের কথা দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।"

  1. ক)

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন?

    (1)
  2. খ)

    "শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়"-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা"-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবানগোলায় দানশাহ ফকিরের আস্তানায় বন্দি হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা ক্লাইভের সাথে চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবাবকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করার তাগিদ বোঝানো হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর এবং অন্য চক্রান্তকারীরা যখন লর্ড ক্লাইভের পাঠানো গোপন চুক্তিপত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল, তখন ক্লাইভের পরামর্শ ছিল কাজ দ্রুত শেষ করার। চক্রান্তের সময় যত বেশি গড়াবে, নবাবের তা জেনে ফেলার ঝুঁকি তত বাড়বে। তাই চক্রান্তকে দ্রুত কার্যকর রূপ দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ নিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্যটি করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বদেশপ্রেম এবং বিদেশি আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী বীরদের প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে বর্গি ও হানাদার বাহিনীর লুণ্ঠন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিসেনাদের মরণপণ লড়াই এবং তাদের প্রতি দেশবাসীর চিরন্তন শ্রদ্ধাবোধের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিদেশি বণিক বেশে এসে এদেশের সম্পদ লুণ্ঠন ও শাসন দখলের পায়তারা করে। তারা বর্গি বা হানাদারদের মতোই বাংলার সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তার অনুগত বীর সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলাল নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। মীর মদন দেশের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দেন। উদ্দীপকে হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিসেনাদের যে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের চিত্র রয়েছে, তা নাটকে ইংরেজ আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা, মীর মদন ও মোহনলালের দেশপ্রেমিক প্রতিরোধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনা মূলত দেশপ্রেম, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের একই সূত্রে গাঁথা—মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে ভিনদেশি আগ্রাসী ও দখলদারদের হাত থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য মুক্তিসেনাদের নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও বীরত্ব। নিজের জীবন বাজি রেখে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছে, তাদের জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে—এটাই উদ্দীপকের মূল সুর।

    অনুরূপভাবে সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান চেতনা হলো বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতার প্রতিরক্ষা। নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন স্বদেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক। ইংরেজ বেনিয়াদের চক্রান্ত ও আগ্রাসন রুখতে তিনি শেষ পর্যন্ত আপসহীন লড়াই করেছেন। মীর মদন ও মোহনলালের মতো বীর সেনানীরা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে সর্বস্ব উৎসর্গ করেছেন। মীর জাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকদের কারণে যুদ্ধে বিপর্যয় ঘটলেও মীর মদন-মোহনলাল-সিরাজউদ্দৌলার এই প্রতিরোধ সংগ্রাম পরবর্তীকালের সব মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা হয়ে রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় হানাদার বা বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে আত্মদানের এই মহিমাই নাটকের চিরন্তন তাৎপর্য।

    অতএব, উদ্দীপকের মুক্তিসেনাদের সংগ্রাম ও নাটকের দেশপ্রেমিক চরিত্রদের বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেতনা অভিন্ন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন