জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

আরশোলাসহ সকল স্থলচর পতঙ্গ বায়ুমণ্ডল থেকে O2O_2 গ্রহণ করে। আমাদের মতো ফুসফুস না থাকলেও বিশেষ ধরনের সূক্ষ্মনালী ও তার শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে এরা প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই নালিকাগুলোর কিছু অংশ ভিতরে বায়ুর অনুপস্থিতিতে চুপসে যায় না, তবে কিছু অংশ চুপসে যায়।

  1. ক)

    ওমাটিডিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ ধরনের নালিকাগুলোর গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঘাসফড়িং বা আরশোলার মতো সন্ধিপদী প্রাণীদের পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের একককে ওমাটিডিয়াম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে রূপান্তরে শিশু অবস্থা ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য থাকে না, কেবল কয়েকটি ধাপের (যেমন—নিম্ফ) মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে মোচন বা একডাইসিসের ফলে শিশু প্রাণী পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়, তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বা হেমিমেটাবোলাস রূপান্তর বলে। যেমন: ঘাসফড়িং বা আরশোলার রূপান্তর। এদের ক্ষেত্রে ডিম ফুটে নিম্ফ বের হয়, যা দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো হলেও এতে ডানা ও জননাঙ্গ অপূর্ণ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ ধরনের নালিকাগুলো হলো আরশোলার শ্বাসনালী বা ট্র্যাকিয়া (Trachea) এবং ট্র্যাকিওল (Tracheole)।

    ১. ট্র্যাকিয়া (Trachea): আরশোলার প্রধান শ্বাসনালী হলো ট্র্যাকিয়া। এর প্রাচীর তিন স্তরবিশিষ্ট—
    ক. বহিঃস্থ স্তর বা বেসমেন্ট পর্দা (ভিত্তি পর্দা)।
    খ. মধ্যবর্তী এপিথেলিয়াম স্তর, যা বহুভুজাকার কোষ দ্বারা গঠিত।
    গ. অন্তঃস্থ কিউটিকল স্তর বা ইনটিমা। ইনটিমা স্থানে স্থানে পুরু ও বলয়াকারে বিন্যস্ত হয়ে সর্পিলাকার বলয় গঠন করে, যাকে টিনিডিয়া (Taenidia) বলে। টিনিডিয়ার উপস্থিতির কারণে ভিতরে বায়ুর অনুপস্থিতিতেও ট্র্যাকিয়া চুপসে যায় না।

    ২. ট্র্যাকিওল (Tracheole): ট্র্যাকিয়ার সূক্ষ্ম শাখাগুলোকে ট্র্যাকিওল বলে। এগুলো ট্র্যাকিওল কোষ থেকে উৎপন্ন হয়। ট্র্যাকিওলের প্রাচীরে ইনটিমা বা টিনিডিয়া থাকে না, ফলে এগুলো বায়ুশূন্য হলে চুপসে যেতে পারে। ট্র্যাকিওলের বদ্ধ প্রান্তগুলো কলাকোষের সংস্পর্শে থাকে এবং এদের ভেতরে ট্র্যাকিওল রস নামক প্রোটিনযুক্ত তরল পূর্ণ থাকে, যার মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো আরশোলার শ্বাসক্রিয়া বা শ্বসন প্রক্রিয়া (প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস)। নিচে রেখাচিত্রের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াটি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. প্রশ্বাস (Inspiration) প্রক্রিয়া:
    বায়ুমণ্ডলীয় O₂ যুক্ত বাতাস → প্রথম ৪ জোড়া স্পাইরাকল বা শ্বাসরন্ধ্র উন্মুক্ত → ট্র্যাকিয়াল কাণ্ড → শাখা ট্র্যাকিয়া → ট্র্যাকিওল নালিকা → ট্র্যাকিওল রস → ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহকোষে O₂ প্রবেশ।

    রেখাচিত্র:
    বায়ুমণ্ডলীয় O₂ → অগ্রবর্তী স্পাইরাকল (শ্বাসরন্ধ্র) → ট্র্যাকিয়া → ট্র্যাকিওল → ট্র্যাকিওল রস → দেহকোষ

    ২. নিঃশ্বাস (Expiration) প্রক্রিয়া:
    দেহকোষে উৎপন্ন CO₂ → ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ট্র্যাকিওল রস → ট্র্যাকিওল নালিকা → শাখা ও প্রধান ট্র্যাকিয়াল কাণ্ড → শেষ ৬ জোড়া স্পাইরাকল বা শ্বাসরন্ধ্র উন্মুক্ত → বায়ুমণ্ডলে CO₂ নির্গমন।

    রেখাচিত্র:
    দেহকোষ (CO₂) → ট্র্যাকিওল রস → ট্র্যাকিওল → ট্র্যাকিয়া → পশ্চাৎবর্তী স্পাইরাকল (শ্বাসরন্ধ্র) → বায়ুমণ্ডলে CO₂ নির্গমন।

    এভাবে আরশোলা সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে পেশির নিয়ন্ত্রণে অবিরাম প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন