বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গফুর মিয়ার সংসার টিকিয়ে রেখেছে তার স্ত্রী মরিয়ম। বিশাল সংসারের সকল দায়িত্ব মরিয়মের- গরুবাছুরের তত্ত্বতালাশ, ধান মাড়াই থেকে সিদ্ধ করা, মেহমান মুসাফির সবকিছুই একহাতে সামলান তিনি। অবশ্য এতে তার ক্লান্তি নেই। শুধু মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একলা মনে হয়। গফুর মরিফমের মনের অবস্থা বোঝে। কারণ সে জানে, তাদের কোনো সন্তান নেই।
- ক)(1)
'নিরাক পড়া' কী?
- খ)(2)
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
’’মরিয়ম 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মতই গফুরের ঘরের খুঁটি"- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'মরিয়মের সন্তান কামনা অতৃপ্ত কিন্তু রহিমার মাতৃহৃদয় কিছু পরিতৃপ্ত'- কীভাবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নিরাক পড়া' বলতে রৌদ্রদগ্ধ দুপুরের স্তব্ধতা বা গুমোট নিস্তব্ধ পরিবেশকে বোঝানো হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'- কথাটির অর্থ হলো মানুষের প্রকৃত জীবনধারণের উপায় বা অন্নের সংস্থান কম হলেও ধর্মীয় ভণ্ডামি, কুসংস্কার ও গোঁড়ামির প্রভাব অনেক বেশি।
উপন্যাসিক মজিদের জন্মভূমি শস্যহীন এলাকার বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে এই উক্তি করেছেন। সেখানে প্রকৃতির কঠোরতায় মানুষের পেটে অন্ন জোটে না, অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই অভাবের মাঝেও মানুষ প্রকৃত ধর্মাচরণের চেয়ে ধর্মের বহিরাবরণ (টুপি) ও অন্ধ কুসংস্কারকেই বেশি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মরিয়ম 'লালসালু' উপন্যাসের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই দায়িত্বশীল ও সংসারের মূল ভিত্তি হওয়ার কারণে তাকে গফুরের ঘরের খুঁটি বলা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা ছিল নীরব, কর্মঠ এবং সংসারের যাবতীয় কাজের দায়িত্ব একহাতে সামলানো নারী। সে নীরবে গৃহস্থালির সব কাজ করত, মজিদকে ভক্তি করত এবং মজিদের গৃহকে স্থিতিশীল রাখার একমাত্র অদৃশ্য খুঁটি হিসেবে ভূমিকা রাখত।
উদ্দীপকের মরিয়মও একইভাবে গফুর মিয়ার পুরো সংসার একহাতে আগলে রেখেছে। গরুবাছুরের দেখাশোনা, ধান মাড়াই-সিদ্ধ করা এবং মেহমান সামলানো—সব কঠিন কাজ সে একাই ক্লান্তিহীনভাবে পালন করে। ঠিক যেভাবে রহিমা মজিদের সংসারের যাবতীয় খুঁটিনাটি সামলে সংসারকে একটি রূপ দিয়েছিল, তেমনি মরিয়মও গফুরের সংসারকে টিকিয়ে রেখেছে। এজন্য মরিয়মকে রহিমার মতোই সংসারের মজবুত খুঁটি বলা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মরিয়মের কোনো সন্তান না থাকায় তার মাতৃত্ব চিরকাল অতৃপ্ত থেকে গেছে, কিন্তু উপন্যাসের রহিমা নিঃসন্তান হওয়া সত্ত্বেও অন্যভাবে মাতৃহৃদয় কিছুটা পরিতৃপ্ত করতে পেরেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মরিয়মের বিশাল কর্মব্যস্ত সংসার থাকলেও নিঃসন্তান হওয়ার কারণে সে ভেতরে ভেতরে তীব্র একাকীত্ব ও হাহাকার অনুভব করে। তার এই সন্তানহীনতার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হয় না, ফলে তার সন্তান কামনা আজীবন অতৃপ্তই থেকে যায়।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসে রহিমাও ছিল নিঃসন্তান। তার কোলেও কোনোদিন সন্তান আসেনি এবং সে জন্য সে মনের ভেতরে অবদমিত বেদনা অনুভব করত। কিন্তু পরবর্তীতে মজিদ যখন অল্পবয়সী জমिलाকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলে, তখন রহিমা জমেলাকে সতীন ভাবার পরিবর্তে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ ও মমতায় গ্রহণ করে। জমিলার চঞ্চলতা ও অবাধ্যতাকে সে মায়ের স্নেহময় দৃষ্টিতে ক্ষমা করে আগলে রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে জমেলাকে ঘিরে রহিমার মাতৃত্বের শূন্যতা কিছুটা হলেও সার্থকতা ও তৃপ্তি লাভ করে।
অতএব, উদ্দীপকের মরিয়মের মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ অপূর্ণ থাকলেও রহিমা জমিলার মধ্য দিয়ে নিজের অবদমিত মাতৃত্বের কিছুটা প্রকাশ ও তৃপ্তি ঘটাতে পেরেছিল। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও