বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শহরে বড়সড় এক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাকাত সরদার নিজাম ও তার দল। এলক্ষ্যে শহরের প্রান্তে এক পরিত্যক্ত বাড়িতে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংগঠিত হতেথাকে। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে নগর পুলিশ পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়েসদলবলে নিজামকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে।
- ক)(1)
ক্লাইভের গাধা বলা হয় কাকে?
- খ)(2)
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ডাকাতদলের প্রস্তুতির বিষয়টিকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন ঘটনারসাথে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“ইংরেজদের পরিণতি উদ্দীপকের নিজামদের মতো হলে এ দেশের ইতিহাস পাল্টে যেত।”- উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মীরজাফরকে 'ক্লাইভের গাধা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়”— উক্তিটি দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারপাশের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও তাঁর অসহায় মানসিক যন্ত্রণাকে বোঝানো হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার পর থেকেই পরিবার, দরবার এবং বহিরাগত ইংরেজদের যৌথ চক্রান্তের শিকার হন। খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মীরজাফর ও প্রভাবশালী সভাসদরা তাঁকে ধ্বংস করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তিনি যেখানেই হাত বাড়াতে যান, সেখানেই গোপন বিশ্বাসঘাতকতার দুর্ভেদ্য বাধার সম্মুখীন হন। এই রুদ্ধশ্বাস ও অসহায় অনুভূতি প্রকাশ করতেই নবাব উক্ত আক্ষেপ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ডাকাতদলের প্রস্তুতির বিষয়টি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজ ও এদেশীয় কুচক্রীদের গোপন ষড়যন্ত্রের বৈঠকের সাথে তুলনীয়।
নাটকে দেখা যায়, লর্ড ক্লাইভ ও ওয়াটসের নেতৃত্বে ইংরেজরা বাংলার স্বাধীনতা হরণ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ লক্ষ্যে তারা নবাবের নিকটাত্মীয় ও প্রধান সেনাপতিদের নিয়ে জগৎশেঠের বাড়িতে কিংবা গোপনে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করে এবং নবাববিরোধী চুক্তি সম্পাদন করে। এই গোপন আয়োজন ছিল মূলত বাংলার স্বাধীনতাকে লুণ্ঠন করার অপপ্রয়াস।
উদ্দীপকে নিজাম ও তার ডাকাত দল যেমন জনস্বার্থবিরোধী বড়সড় এক অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে শহরের প্রান্তে এক পরিত্যক্ত বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংগঠিত হচ্ছিল, নাটকেও ইংরেজ ও তাদের দেশীয় দোসররা একই কায়দায় নবাব তথা দেশের স্বার্থ হরণের জন্য গোপনে চক্রান্তের জাল বুনেছিল। তাই এই প্রস্তুতির বিষয়টি নাটকের ষড়যন্ত্রকারী দলের গোপন বৈঠকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ইংরেজদের পরিণতি উদ্দীপকের নিজামদের মতো হলে এ দেশের ইতিহাস পাল্টে যেত”— উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সত্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ডাকাত সরদার নিজাম ও তার দল বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিলেও নগর পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যথাসময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। ফলে তাদের দুষ্কর্ম সফল হতে পারেনি এবং শহর রক্ষা পায়।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ইংরেজরা বাণিজ্য করার ছুতোয় বাংলায় প্রবেশ করে এদেশের ক্ষমতালোভী ও বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের সাথে নিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের খবর আঁচ করতে পেরেও শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ বা সামরিক চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। ফলে পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব পরাজিত ও নিহত হন এবং বাংলায় ইংরেজদের প্রায় দুইশত বছরের পরাধীনতার সূতিকাগার তৈরি হয়।
যদি নিজামদের মতো ইংরেজ ষড়যন্ত্রকারীদেরও যথাসময়ে কঠোর হস্তে দমন ও নিশ্চিহ্ন করা যেত, তবে পলাশীর ট্র্যাজেডি ঘটত না এবং বাংলা তথা গোটা ভারতবর্ষের পরাধীনতার ইতিহাস হয়তো রচিত হতো না। দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকত। সুতরাং, উক্তিটি সর্বাংশে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও