যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

তথ্য-১: 'ক' শ্রেণিকক্ষে একটি ছবির বিভিন্ন টুকরো কুড়িয়ে পেল। কৌতূহলবশতঃ সে টুকরোগুলোকে একত্রিত করে দেখলো এটা তার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি।তথ্য-২: শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে নিম্নের চিত্র থেকে প্রমাণ করলেন বৃত্তের সকল ব্যাসার্ধ পরস্পর সমান। এরপর তিনি বললেন, সকল বৃত্তের ক্ষেত্রে এটা সত্য।

  1. ক)

    প্রকৃত আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তথ্য-১ এ কোন ধরনের অপ্রকৃত আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তথ্য-২ এ যে ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে তাকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় কি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল লক্ষণ বা প্রধান বৈশিষ্ট্য 'আরোহাত্মক লম্ফ' (Inductive leap) বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং কোনো কার্যকর সম্পর্ক নির্ণয় না করেই সিদ্ধান্ত গঠন করে। এতে কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার সাহায্যে কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেখে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেহেতু এখানে কোনো প্রকার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয় না, তাই ভবিষ্যতে একটি বিপরীত দৃষ্টান্ত আবিষ্কৃত হলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে। এজন্য অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-১ এ অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদের মধ্যে 'যুক্তিসংযোজন' (Colligation of facts)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    যে মানসিক প্রক্রিয়ায় কতগুলো নিরীক্ষিত বা প্রত্যক্ষকৃত পৃথক তথ্য বা ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার সাহায্যে একত্রিত বা সংযুক্ত করা হয়, তাকে যুক্তিসংযোজন বলে। এতে জানা থেকে অজানায় গমনের কোনো আরোহাত্মক লম্ফ থাকে না।

    উদ্দীপকের তথ্য-১ এ দেখা যায়, 'ক' শ্রেণিকক্ষে একটি ছবির বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত টুকরো কুড়িয়ে পায়। পরে সে কৌতূহলবশত সেই আলাদা আলাদা টুকরোগুলোকে একত্রিত বা সংযুক্ত করে দেখতে পায় যে এটি তার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সম্পূর্ণ ছবি। এখানে কোনো অজানা তথ্যে গমন করা হয়নি, বরং উপস্থিত বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে একটি সামগ্রিক ধারণার অধীনে আনা হয়েছে। তাই এটি অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্গত যুক্তিসংযোজন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্য-২ এ অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদের অন্তর্গত 'যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ' (Induction by parity of reasoning)-এর প্রতিফলন ঘটেছে। একে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না।

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত বা আকারের ক্ষেত্রে কোনো সত্য প্রমাণিত হলে, ঠিক একই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে সমজাতীয় সকল দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তটি সত্য বলে অনুমান করা হয়, তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে। উদ্দীপকে শিক্ষক একটি বিশেষ বৃত্তের বিভিন্ন ব্যাসার্ধ (OA, OB, OC, OD) সমান দেখে জ্যামিতিক যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন যে 'সকল বৃত্তের ক্ষেত্রে সকল ব্যাসার্ধ পরস্পর সমান'। এটি স্পষ্টতই যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ।

    এই আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না, কারণ:
    ১. আরোহাত্মক লম্ফের অনুপস্থিতি: প্রকৃত আরোহের প্রধান ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো আরোহমূলক লম্ফ (জানা থেকে অজানায় বা নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে গমন)। যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে কোনো লম্ফ থাকে না; এতে কেবল জ্যামিতিক ব্যাখ্যার যুক্তি পুনরাবৃত্তি করা হয়।
    ২. কার্যকারণ নিয়মের অনুপস্থিতি: প্রকৃত আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ মূলত গাণিতিক বা জ্যামিতিক সংজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল।
    ৩. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির অভাব: এটি অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনা থেকে প্রকৃতির একরূপতা অনুসরণ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না, বরং যুক্তি বা সংজ্ঞার স্বতঃসিদ্ধতার ওপর নির্ভর করে।

    সুতরাং, প্রকৃত আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুপস্থিত থাকায় তথ্য-২ এর প্রক্রিয়াকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না; এটি অপ্রকৃত আরোহের একটি রূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন