পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
উপমহাদেশের শাসনের এক পর্যায়ে ব্রিটিশরা ভারত শাসন আইন নামে একটি আইন তৈরি করে। উক্ত আইনে সর্বপ্রথম ভারতের প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। এই আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ও দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। এই আইনের ধারাবাহিকতায় এক সময় ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়।
- ক)(1)
দ্বৈতশাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
কেন ব্রিটিশ সরকার ভাগ কর ও শাসন কর নীতি গ্রহণ করেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
এই আইনের ধারাবাহিকতায় ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে প্রবর্তিত এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' ও 'সংরক্ষিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করে দুই ধরনের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করা হতো, তাকে দ্বৈতশাসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ সরকার ভারতে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুদৃঢ় করতে 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি গ্রহণ করেছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রধান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়—হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও সন্দেহ সৃষ্টি করা, যেন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে সর্বপ্রথম একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (All-India Federation) গঠনের প্রস্তাব করা হয়, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যসমূহ। এ আইনে প্রদেশগুলোতে পূর্বের দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' প্রদান করা হয়। এছাড়া এই আইনের মাধ্যমেই সিন্ধু ও উড়িষ্যা নামে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়েছিল। উদ্দীপকের তথ্যগুলোর সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের এই বৈশিষ্ট্যগুলোর হুবহু মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক, যার চূড়ান্ত ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়।
এই আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে ভারতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ বিভিন্ন প্রদেশে সরকার গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় নেতারা সাংবিধানিক ও সংসদীয় শাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তবে কংগ্রেসের একক আধিপত্যের ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি তীব্রতর হয়, যা ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের রূপ নেয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশরা ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৩৫ সালের শাসনকাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৭ সালের 'ভারতীয় স্বাধীনতা আইন' প্রণীত হয়। এমনকি স্বাধীনতা অর্জনের পরও ভারত ও পাকিস্তান—উভয় রাষ্ট্রই তাদের নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে সামান্য সংশোধন সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর রেখেছিল। সুতরাং, বলা যায় এই আইনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও