‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

নাগরিকদের অধিকতর সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু’ভাগে ভাগ করে। ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন’ ও ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন’ নামে পৃথক দুটি সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করে।

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গ কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠনের পদক্ষেপকে বঙ্গভঙ্গ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈত শাসন বলতে একই শাসনব্যবস্থায় দুটি সমান্তরাল কর্তৃপক্ষের শাসনকে বোঝায়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতের প্রাদেশিক পর্যায়ে 'হস্তান্তরিত' (জনগণের প্রতিনিধিদের অধীন) এবং 'সংরক্ষিত' (গভর্নরের প্রত্যক্ষ অধীন) বিষয়ে ক্ষমতা ভাগ করে যে শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে, তা ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যপুস্তকের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯০৫ সালের পূর্বে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সি একজন গভর্নরের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন ছিল। তাই লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেন এবং পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, নাগরিকদের অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ও সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি পৃথক অংশে ভাগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে একটি অঞ্চলকে বিভক্ত করার এই রূপটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনার প্রাথমিক উদ্দেশ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বঙ্গভঙ্গের প্রকাশ্য কারণ প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও এর মূলে ছিল উদীয়মান ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা—উক্তিটি যথার্থ।

    ব্রিটিশ শাসকরা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল যে বাংলা প্রদেশ আয়তন ও জনসংখ্যায় অনেক বড় হওয়ায় প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে বঙ্গভঙ্গ প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ব্রিটিশদের কুখ্যাত 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি। সেই সময়ে কলকাতাকেন্দ্রিক হিন্দু ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনা ও ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠছিল, তা ব্রিটিশ রাজত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

    ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করে যে, বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে দুর্বল করতে হলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করতে হবে। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের আলাদা সুবিধা ও স্বাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বিভক্ত করা হয়, যাতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। অতএব, দৃশ্যত প্রশাসনিক সংস্কার মনে হলেও বঙ্গভঙ্গের আসল উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন