জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরাগায়ন ঘটিয়ে বর্তমান জাতের ফসল হতে উন্নত জাতের ফসল প্রবর্তন সম্ভব।

  1. ক)

    ত্রিমিলন কী?

    (1)
  2. খ)

    পার্থেনোজেনেসিস বলতে কী বোঝ?Option B

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে নতুন জাত উদ্ভাবন প্রক্রিয়া সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উল্লিখিত পদ্ধতির ফসল প্রয়োগের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ"-- উদাহরণসহ উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গুপ্তবীজী উদ্ভিদের নিষেকের সময় একটি পুংজননকোষ (হ্যাপ্লয়েড) সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের (ডিপ্লয়েড) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য নিউক্লিয়াস গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্রিমিলন বা ট্রিপল ফিউশন (Triple fusion) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষেচন ক্রিয়া ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ বা নতুন অপত্য সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি বলে।
    এ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার শুক্রাণু বা পুংজননকোষের মিলন ঘটে না। মৌমাছি, বোলতা, কিছু ফার্ন এবং কিছু আবৃতবীজী উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়া দেখা যায়। এটি হ্যাপ্লয়েড বা ডিপ্লয়েড হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরাগায়নের মাধ্যমে উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন প্রক্রিয়া অর্থাৎ 'কৃত্রিম সংকরায়ণ' (Artificial hybridization)-এর কথা বলা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

    ১. জনক নির্বাচন: কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের সুস্থ-সবল দুটি উদ্ভিদকে স্ত্রী ও পুরুষ জনক হিসেবে বাছাই করা হয়।
    ২. জনকের আত্মপরাগায়ন ও বিশুদ্ধ লাইন সৃষ্টি: নির্বাচিত জনক উদ্ভিদগুলোর মধ্যে কয়েক প্রজন্ম ধরে স্বপরাগায়ন ঘটিয়ে হোমোজাইগাস বা বিশুদ্ধ বৈশিষ্ট্যের লাইন তৈরি করা হয়।
    ৩. ইমাস্কুলেশন (Emasculation): স্ত্রী উদ্ভিদ হিসেবে নির্বাচিত উদ্ভিদের উভলিঙ্গ ফুল থেকে পরাগরেণু পরিপক্ব হওয়ার আগেই চিমটার সাহায্যে পুংকেশর অপসারণ করা হয়।
    ৪. ব্যাগিং (Bagging): অবাঞ্ছিত পরাগায়ন রোধ করতে ইমাস্কুলেট করা ফুলটিকে পাতলা পলিথিন বা বাটার পেপারের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
    ৫. নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরাগায়ন: পুরুষ উদ্ভিদের পরিপক্ব পরাগরেণু সংগ্রহ করে ইমাস্কুলেট করা স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে ব্রাশ দিয়ে সাবধানে স্থাপন করা হয়।
    ৬. ট্যাগিং ও লেবেলিং: পরাগায়নের পর ফুলটিকে আবার ঢেকে দিয়ে তাতে তারিখ ও জনকের নামযুক্ত ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়।
    ৭. বীজ সংগ্রহ ও সংকর উদ্ভিদ উৎপাদন: সৃষ্ট ফল থেকে পরিপক্ব বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তী মৌসুমে বপন করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের প্রথম বংশধর বা নতুন জাত উৎপাদন করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃত্রিম সংকরায়ণ পদ্ধতির ফসল প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে অভাবনীয় সাফল্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে— উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।

    ১. উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন: কৃত্রিম সংকরায়ণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯সহ শতাধিক উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে একক জমিতে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা এবং হাওর ও প্লাবন অঞ্চলের বন্যা মোকাবিলার জন্য সংকরায়ণের মাধ্যমে লবণাক্ততাসহিষ্ণু (যেমন- ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৭৩) ও জলমগ্নতাসহিষ্ণু (যেমন- ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২) ধানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যা আগে ফলনহীন জমিতেও ফসল উৎপাদনে বিপ্লব এনেছে।
    ৩. গম ও ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) উচ্চফলনশীল গমের জাত (যেমন- শতাব্দী, বিজয়, বারি গম-৩৩) এবং হাইব্রিড ভুট্টা উদ্ভাবন করে খাদ্যশস্যের জোগান নিশ্চিত করেছে।
    ৪. পুষ্টি নিরাপত্তা: জিংকসমৃদ্ধ ধান (যেমন- ব্রি ধান-৬৪) এবং স্বল্পমেয়াদি ফসলের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ বছরে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে।

    সুতরাং, আধুনিক সংকরায়ণ পদ্ধতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমেই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন