‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবির মুখে এবং পর্যায়ক্রমে অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস করা হয়।

  1. ক)

    কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আইনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছিল? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের (Government of India Act 1858) মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে স্বদেশি আন্দোলন বলে। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি (ব্রিটিশ) পণ্য বর্জন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে ব্রিটিশ সরকারের ওপর বঙ্গভঙ্গ রদের চাপ সৃষ্টি করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত '১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন' (মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    এই আইনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. প্রদেশে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা: প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved)—এই দুই ভাগে ভাগ করে মন্ত্রীদের ও গভর্নরের নির্বাহী কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়।
    ২. কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দুটি কক্ষে বিভক্ত করা হয়—উচ্চ পরিষদ (Council of State) এবং নিম্ন পরিষদ (Legislative Assembly)।
    ৩. প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও সীমিত ভোটাধিকার: ভারতে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তবে ভোটাধিকার ছিল সম্পত্তি ও কর প্রদানের শর্তে অত্যন্ত সীমিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার দায়িত্বশীল সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে কার্যকর হতে পারেনি।
    প্রথমত, প্রদেশে প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থা ছিল অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, বিচার ও রাজস্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল গভর্নরের 'সংরক্ষিত' বিষয়ে, যেখানে ভারতীয় মন্ত্রীদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। মন্ত্রীদের দেওয়া হয়েছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মতো তহবিলবিহীন 'হস্তান্তরিত' বিষয়।
    দ্বিতীয়ত, ভারতীয় মন্ত্রীদের পদমর্যাদা থাকলেও কার্যকর ক্ষমতা ছিল না। গভর্নর চাইলে যেকোনো মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারতেন এবং আইনসভার প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন না।
    তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বড়লাট বা গভর্নর-জেনারেল আগের মতোই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
    সুতরাং, ভারতীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এ আইন পাস হলেও এটি ছিল একটি 'অর্ধেক ও লোকদেখানো' সংস্কার, যার মাধ্যমে ভারতীয়দের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে মূলত ব্রিটিশদের আধিপত্যই বজায় রাখা হয়েছিল। ফলে কাঙ্ক্ষিত দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন