ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব কফিল 'সাহানা' গার্মেন্টসের সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক। এম, বি. এ পাসের পর তিনি বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেন। একটি বড় কক্ষে তিনি অন্যান্য বিভাগের পাঁচজন ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের সাথে একসঙ্গে বসে অফিস কার্যসম্পাদন করেন। গত পাঁচ বছরে একই পদে তার বেতন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু একই বেতনে তিনি সালেহা গার্মেন্টসে চলে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করলে কর্তৃপক্ষ বেতন না বাড়িয়ে তাকে ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেন এবং তার অন্য একটি সুসজ্জিত কক্ষ বরাদ্দ করেন। জনাব কফিল এতে অত্যন্ত খুশি হন এবং পূর্বের চেয়ে আরও অধিক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে থাকেন।
- ক)(1)
আত্মতৃপ্তির চাহিদা কী?
- খ)(2)
প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে সম্পর্ক দেখাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম পর্যায়ে জনাব কফিলকে কোন ধরনের প্রেষণা প্রদান করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
যে ধরনের প্রেষণা প্রদানের ফলে জনাব কফিল প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাননি তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুসারে একজন ব্যক্তির নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটানোর এবং নিজস্ব অনন্য সত্তা প্রমাণের তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে আত্মতৃপ্তির চাহিদা (Self-actualization need) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেষণা হলো কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, মনোবল হলো কর্মীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মানসিক অবস্থা, আগ্রহ বা সন্তুষ্টির প্রকাশ। প্রেষণা ও মনোবলের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং প্রত্যক্ষ। সঠিক ও কার্যকর প্রেষণাদানের মাধ্যমে কর্মীদের সন্তুষ্টি বাড়ে, যা তাদের মনোবলকে উন্নত করে। উচ্চ মনোবলসম্পন্ন কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত থাকে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সুতরাং, প্রেষণা হলো কারণ এবং উন্নত মনোবল হলো তার ফল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম পর্যায়ে জনাব কফিলকে 'আর্থিক প্রেষণা' প্রদান করা হয়েছিল।
যে প্রেষণা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থ বা আর্থিক সুবিধার সাথে সম্পর্কিত, তাকে আর্থিক প্রেষণা বলা হয়। যেমন- বেতন বৃদ্ধি, বোনাস, বাসস্থান ভাতা ইত্যাদি। মানুষের জৈবিক ও মৌলিক চাহিদা পূরণে আর্থিক প্রেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব কফিল 'সাহানা' গার্মেন্টসে সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক পদে যোগদানের পর বিগত পাঁচ বছরে একই পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার বেতন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এখানে বেতন বৃদ্ধি হলো প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধার অংশ। ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে জনাব কফিলকে কাজের প্রতি উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রেষণা প্রদান করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব কফিল প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাননি কারণ তাকে 'অনার্থিক প্রেষণা' (পদোন্নতি ও উন্নত কাজের পরিবেশ) প্রদান করা হয়েছিল, যা তার বর্তমান চাহিদার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল।
মানুষের অভাব কেবল অর্থ বা আর্থিক সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী, নিম্নপর্যায়ের জৈবিক বা আর্থিক চাহিদা পূরণ হয়ে গেলে মানুষের আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির মতো উচ্চতর অভাব দেখা দেয়। অর্থ ছাড়া পদোন্নতি, স্বতন্ত্র বসার ব্যবস্থা, স্বীকৃতি, কাজের উপযুক্ত পরিবেশ ইত্যাদির মাধ্যমে কর্মীদের উৎসাহিত করার প্রক্রিয়াকে অনার্থিক প্রেষণা বলে।
উদ্দীপকে জনাব কফিলের বেতন দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও তিনি একই বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে চেয়েছিলেন, কারণ সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে বড় কক্ষে অন্যদের সাথে বসে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানের অভাব বোধ করছিলেন। কর্তৃপক্ষ তার এই মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করে বেতন না বাড়িয়ে তাকে ব্যবস্থাপক পদে 'পদোন্নতি' দেন এবং একটি 'সুসজ্জিত পৃথক কক্ষ' বরাদ্দ করেন। এটি হলো অনার্থিক প্রেষণা। এর ফলে তার আত্মমর্যাদার চাহিদা পূরণ হয় এবং তিনি প্রতিষ্ঠানে থেকে যান ও অধিক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করেন।
অতএব, কেবল অর্থ দিয়েই কর্মীদের সর্বদা ধরে রাখা যায় না; নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতির মতো অনার্থিক প্রেষণা অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই জনাব কফিলকে ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষের গৃহীত অনার্থিক প্রেষণাদানের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও