পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জন্মগতভাবে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী 'B' এর পায়ের আকৃতি ও গড়ন স্বাভাবিক মানুষের মত নয়। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত সে প্রতিদিন কলেজে এসে ক্লাস করতে পারে না। পরীক্ষার সময় সে তার মায়ের সাথে এসে হুইল চেয়ারে বসে পরীক্ষা দেয়। সে পড়ালেখা করে স্বাবলম্বী হতে চায়। শিক্ষকগণ তার প্রতি মানবিক ও সহনশীল।
- ক)(1)
ইভটিজিং কী?
- খ)(2)
অটিজম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থী 'B' কোন ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের করণীয়সমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক প্লেস বা জনসমক্ষে কোনো নারী বা কিশোরীকে উদ্দেশ্য করে করা যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য, ইঙ্গিত, উত্যক্তকরণ বা যৌন হয়রানিকে ইভটিজিং বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বা স্নায়বিক বিকাশজনিত একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগ, ভাবের আদান-প্রদান এবং আচরণগত মিথস্ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে এবং তাদের সামাজিক মেলামেশা সীমিত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থী 'B' শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (Physical Disability) সংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত।
ব্যাখ্যা: শারীরিক প্রতিবন্ধিতা হলো মানুষের দেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (যেমন—হাত, পা বা মেরুদণ্ড) জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা স্বাভাবিকভাবে বিকশিত না হওয়া, যার ফলে ব্যক্তির স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈহিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষার্থী 'B'-এর পায়ের গঠন স্বাভাবিক মানুষের মতো নয় এবং সে নিজে হেঁটে প্রতিদিন কলেজে আসতে পারে না, বরং মায়ের সাহায্যে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করে। এই লক্ষণগুলো স্পষ্ট নির্দেশ করে যে সে শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষার্থী 'B'-এর মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সহায়ক পরিবেশ ও র্যাম্প নির্মাণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল ভবনে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী র্যাম্প, বিশেষ লিফট এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগারের ব্যবস্থা করা।
২. ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি: সহপাঠী ও শিক্ষকদের উচিত তাদের কোনোভাবেই হেয় বা করুণার পাত্র না করে একজন স্বাভাবিক বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা এবং ক্লাসের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা।
৩. বিশেষ একাডেমিক সুবিধা প্রদান: পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত সময় প্রদান, নিচতলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে শ্রুতিলেখকের ব্যবস্থা করা।
৪. মানসিক সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দান: প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে উৎসাহিত করা।
৫. সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা: রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং বৃত্তি বা আর্থিক অনুদানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।পরিশেষে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযুক্ত সুযোগ ও সহযোগিতা প্রদান করলে তারাও সমাজের বোঝা না হয়ে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও