অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সিরাজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা। বন্ধু জাকির শিল্প মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। জাকির সিরাজকে প্রশ্ন করেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য কি করা উচিত? উত্তরে সিরাজ বলল, শুধু কৃষি নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। অর্থনীতির প্রতিটি খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। অতঃপর তা অর্জনের জন্য এক, পাঁচ বা দীর্ঘ সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেত হবে। এসব পরিকল্পনা পূর্ণরূপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব।

  1. ক)

    আঞ্চলিক পরিকল্পনা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি কিভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রকারভেদ আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আন্তঃসংযোগ আবশ্যক? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমগ্র দেশের পরিবর্তে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা বা অঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান ও সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে আঞ্চলিক পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দারিদ্র্য ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা ও শিক্ষার আলো পৌঁছায়। মানুষ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা অর্জনের কারণে অতিরিক্ত সন্তানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনে। এছাড়া নারীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে পরিবার পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে, যা কার্যকরভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সিরাজ বিভিন্ন সময়কালের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। সময়কালের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত এক বছর মেয়াদের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে; যেমন সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP)।
    ২. মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বা সাত বছর মেয়াদের জন্য গৃহীত পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। যেমন—বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।
    ৩. দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা: দীর্ঘ সময়ের জন্য (যেমন ১৫, ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদি) সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বলা হয়; যেমন রূপকল্প ২০২১ বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে ঘনিষ্ঠ আন্তঃসংযোগ থাকা আবশ্যক।

    উদ্দীপকে সিরাজ উল্লেখ করেছে যে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য এক, পাঁচ বা দীর্ঘ সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাস্তবে একটি দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তাকে কতগুলো মধ্যমেয়াদি (যেমন পঞ্চবার্ষিক) পরিকল্পনায় বিভক্ত করতে হয়। আবার প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়।

    যদি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আন্তঃসমন্বয় বা ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বা জাতীয় দূরদৃষ্টি ব্যাহত হবে। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে প্রতিফলিত করেই বার্ষিক বাজেট ও কর্মসূচি সাজাতে হয়। সুতরাং, একটি অপরটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করলেই কেবল সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন