ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সমবায়ের মূলমন্ত্রই হলো “একতাই বল”, “সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।” এগুলো সত্যিই আবেদনময়ী কথা! সবার কল্যাণ, ঐক্য, সহযোগিতা ও সাম্য এ বিষয়গুলো অন্য ব্যবসায় সংগঠনের সাথে তেমনভাবে দেখা যায় না। বাংলাদেশের সমবায় সংগঠন তার নির্দিষ্ট আঙ্গিকে ব্যাপকতা লাভ করুক, সফল হোক এটা অনেকেই বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশা করে থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাব, ব্যাপক প্রচারসহ বিবিধ কারণে বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন তেমনভাবে সফল হয়নি।
- ক)(1)
সমবায় কী?
- খ)(2)
উৎপাদক সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
সমবায় সংগঠন অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে পৃথক কেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন সফল না হওয়ার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমমনা ও সমশ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায় আইনের অধীনে একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উৎপাদকগণ বা সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী ব্যক্তিবর্গ নিজেদের স্বার্থরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি, সুলভে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্য লাভজনকভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
এ ধরনের সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উৎপাদকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পায় এবং যৌথভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ক্রয় করে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সক্ষম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল উদ্দেশ্য, নীতি ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সমবায় সংগঠন অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে পৃথক।
সাধারণত অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য থাকে মুনাফা অর্জন করা। কিন্তু সমবায় সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্যদের পারস্পরিক আর্থিক কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষা করা। সমবায় সমিতি গণতান্ত্রিক নীতি ও সাম্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রতিটি সদস্যের মূলধন নির্বিশেষে একটি মাত্র ভোট দেওয়ার অধিকার থাকে; যা যৌথ মূলধনী কোম্পানি বা অন্যান্য ব্যবসায় দেখা যায় না।
উদ্দীপকেও উল্লেখ রয়েছে সমবায়ের মূলমন্ত্র হলো "একতাই বল" এবং "সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"। অন্যান্য ব্যবসায় মূলধনের প্রাধান্য বা ব্যক্তিগত লাভের প্রতিযোগিতা থাকলেও সমবায়ে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে সমবায় সংগঠন অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন থেকে স্বতন্ত্র বা পৃথক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন আশানুরূপ সফল না হওয়ার পেছনে সচেতনতার অভাব, কার্যকর প্রচারণার ঘাটতি, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির মতো কারণগুলো দায়ী।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমবায়ের মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা হলেও সচেতনতার অভাব, ব্যাপক প্রচারসহ বিবিধ কারণে বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন তেমন সফল হয়নি। এ বক্তব্যটি বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের বাস্তব চিত্রের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
বাস্তব প্রেক্ষাপট ও উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে সমবায় ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শিক্ষার ও সচেতনতার অভাব: অধিকাংশ সাধারণ মানুষের সমবায়ের দর্শন, নিয়মকানুন ও সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতা নেই।
২. প্রচারণার অভাব: সমবায়ের সফলতার দিকগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হয় না, যার ফলে জনগণ এতে উদ্বুদ্ধ হতে পারছে না।
৩. মূলধন সংকট: সদস্যদের আর্থিক অনগ্রসরতার কারণে প্রয়োজনীয় মূলধন সঞ্চয় সম্ভব হয় না।
৪. দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব ও দুর্নীতি: কমিটির সদস্যদের অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ সদস্যদের আস্থা নষ্ট হয়।
৫. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও তদারকির ঘাটতি: সময়োপযোগী নীতি ও কঠোর নজরদারির অভাবে অনেক সমবায় নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।অতএব, উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে বলা যায় যে, সার্বিক সচেতনতার ঘাটতি, আন্তরিকতার অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও