‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রশাসনিক কার্যের সুবিধার্থে কর্তৃপক্ষ 'ক' নামক অঞ্চলটিকে পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে পূর্ব অঞ্চলবাসী আনন্দিত হয়। কারণ তাদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটবে। কিন্তু পশ্চিম অঞ্চলবাসী এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়। কারণ এতে তাদের প্রভাব ও গুরুত্ব কমে যাবে। তাই তারা এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে। ফলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি বাতিল করে।

  1. ক)

    কোন কর্মসূচিকে বাঙালির ম্যাগনাকাটা বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ পূর্ব অঞ্চলের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালির ম্যাগনাকাটা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলায় পরিচালিত একটি ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়। ইসলাম ধর্মের মৌলিক ফরজ বা আবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে পালনের তাগিদ দেওয়া থেকে এ আন্দোলনের নামকরণ করা হয় 'ফরায়েজি'। পরবর্তীকালে এটি নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক-প্রজাদের প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (১৯০৫ সাল) এবং পরবর্তীতে 'বঙ্গভঙ্গ রদ' (১৯১১ সাল) ঘটনার মিল পাওয়া যায়।

    ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার কারণ দেখিয়ে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন। পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠী এই বিভক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে, কিন্তু কলকাতার হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ী শ্রেণি এই বিভক্তির চরম বিরোধিতা করে বঙ্গভঙ্গবিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন শুরু করে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রশাসনিক সুবিধার্থে অঞ্চলটিকে ভাগ করায় পূর্ব অঞ্চলবাসী আনন্দিত হয়েছিল, কারণ এর ফলে তাদের বৈষম্য ঘুচবে। কিন্তু পশ্চিম অঞ্চলবাসী তাদের আধিপত্য খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় আন্দোলন করে এবং কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে। এটি হুবহু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে তা বাতিলের ঘটনার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ (১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ) পূর্ব অঞ্চলের জনজীবনে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

    বঙ্গভঙ্গের ফলে নবগঠিত 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। এর ফলে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঢাকা দ্রুত উন্নতি লাভ করতে থাকে। এতদিন কলকাতার ওপর নির্ভরশীল থাকা পূর্ব বাংলার পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজ নিজেদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি নতুন সুযোগ লাভ করে। নতুন সরকারি দপ্তর, বিচারালয় এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়, যার পথ ধরে ১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। শিক্ষার প্রসারেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়।

    যদিও পরবর্তীতে ১৯১১ সালে তীব্র বিরোধিতার মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে পূর্ব অঞ্চলের জনগণ গভীরভাবে হতাশ হয়, তবুও এই বিভক্তি তাদের মধ্যে আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের যে চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল, তা পরবর্তীকালে এ অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন