পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ক' জনগোষ্ঠী একই ভূখণ্ড, ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রীতিনীতি, অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষার অধিকারী। কিন্তু তারা বিদেশি শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শাসক গোষ্ঠীর শাসন ও বৈষম্যের কারণে 'ক' জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের জন্ম নেয়। তারা রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত হয়। নানা আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়।
- ক)(1)
নৈতিকতা কী?
- খ)(2)
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'ক' জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্রবোধের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন পূরণের সাথে সাম্যর সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরের এমন এক বোধ বা আদর্শ, যা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও উচিত-অনুচিতের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে এবং মানুষকে সৎ ও ভালো কাজে উৎসাহিত করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে বোঝায় গণতন্ত্রের ভিত্তি যেসব চিন্তা, বিশ্বাস, চেতনা ও আচরণগত রীতিনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোর সমষ্টিকে। এর মধ্যে রয়েছে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, সাম্য, মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংখ্যালঘুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে এই মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'জাতীয়তা' ও 'জাতি' ধারণার মিল রয়েছে।
পাঠ্যবই অনুযায়ী, জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি, যা একটি নির্দিষ্ট জনসমাজকে একতাবদ্ধ করে এবং অন্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে। একই ভূখণ্ড, অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। আর এই রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনসমাজ যখন সার্বভৌম রাজনৈতিক সংগঠন বা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়, তখন তা 'জাতি'তে রূপ নেয়।
উদ্দীপকের 'ক' জনগোষ্ঠী অভিন্ন ভূখণ্ড, ভাষা, ঐতিহ্য ও রীতিনীতির অধিকারী হয়েও বিদেশি শাসকের অধীনে ছিল। শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের কারণে তাদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাতন্ত্র্যবোধ জেগে ওঠে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনে দীর্ঘ সংগ্রাম করে। এটি মূলত রাজনৈতিক চেতনাযুক্ত 'জাতীয়তা' থেকে 'জাতি'তে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন পূরণ, অর্থাৎ স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের সাথে 'সাম্য' অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।
সাম্য বলতে বোঝায় এমন একটি অনুকূল সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং কোনো প্রকার বৈষম্য বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অস্তিত্ব থাকে না। সাম্য ছাড়া কোনো জনসমষ্টির প্রকৃত স্বাধীনতা বা জাতীয় মুক্তি সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' জনগোষ্ঠী বিদেশি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক তীব্র শাসন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। বিদেশি শাসকরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের সম-অধিকার ও মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করেছিল। এই বৈষম্য দূর করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই 'ক' জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে এবং তারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সাম্যহীনতা ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সব মানুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল উক্ত জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন। তাই সাম্যের দাবিই তাদের স্বাধীনতা অর্জনের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও