ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
কুয়াকাটার সামুদ্রিক মাছ ধরা জেলেরা ২০ জন মিলে আইনসৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেয়। এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তারা একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে যেখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি এবং কোষাধ্যক্ষ আছেন একজন করে এবং সাধারণ সদস্য তিনজন। প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনের জন্য অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে নিবন্ধক প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপত্র ইস্যু করতে বিরত থাকেন ।
- ক)(1)
বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
'বিমা হচ্ছে চরম সদ্বিশাসের চুক্তি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় কী? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়, তা দূর করার জন্য সম্পাদিত যাবতীয় কার্যাবলির সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা চুক্তি হলো 'চরম সদ্বিশ্বাসের চুক্তি' (Contract of Utmost Good Faith), কারণ এ চুক্তিতে উভয় পক্ষকেই চুক্তিসংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পরস্পরের নিকট সততার সাথে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হয়।
বিমাগ্রহীতাকে বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সব সত্য তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হয় এবং কোনো তথ্য গোপন করা যায় না। অনুরূপভাবে বিমাকারী প্রতিষ্ঠানকেও চুক্তির শর্তাবলি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হয়। কোনো পক্ষ তথ্য গোপন করলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তাই পারস্পরিক গভীর বিশ্বাস ও আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিমাকে চরম সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সমবায় সমিতি।
সমমনা বা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমবেত প্রচেষ্টায় দেশের প্রচলিত সমবায় আইনের অধীনে যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে। বাংলাদেশে ২০০১ সালের সমবায় আইন (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০০৪ সালের সমবায় বিধিমালা অনুযায়ী এটি গঠিত ও পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে কুয়াকাটার ২০ জন সামুদ্রিক মাছ ধরা জেলে মিলে আইনসৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠনের জন্য ন্যূনতম ২০ জন সদস্য প্রয়োজন। নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সমমনা জেলেদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ সমবায় সমিতির বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমবায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ও কাঠামো সংশোধন বা পুনর্গঠন করা আবশ্যক।
বাংলাদেশ সমবায় আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, সমবায় সমিতির প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটি বা নিবন্ধক কর্তৃক অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ৬, ৯ বা ১২ জনে সীমাবদ্ধ থাকবে, যা তিন দ্বারা বিভাজ্য। উদ্দীপকে জেলেরা যে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেছে তাতে সদস্য সংখ্যা ছিল:
১ জন চেয়ারম্যান + ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান + ১ জন সেক্রেটারি + ১ জন কোষাধ্যক্ষ + ৩ জন সাধারণ সদস্য = মোট ৭ জন।এখানে সদস্য সংখ্যা ৭ জন হওয়ায় তা আইনানুগ নিয়ম (৬, ৯ বা ১২ জন) ভঙ্গ করেছে। এই ত্রুটির কারণেই সমবায় নিবন্ধক প্রতিষ্ঠানটিকে নিবন্ধনপত্র দিতে বিরত থেকেছেন।
অতএব, প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপত্র পেতে হলে তাদের ব্যবস্থাপনা কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা বিধি মোতাবেক ৬ জন (অথবা ৯ জন)-এ নামিয়ে এনে বা বৃদ্ধি করে পুনর্গঠন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কমিটির সাধারণ সদস্য ৩ জন থেকে কমিয়ে ২ জন করলে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ জন হবে (অথবা সাধারণ সদস্য বাড়িয়ে ৫ জন করলে মোট সদস্য সংখ্যা ৯ জন হবে)। পুনর্গঠিত এই ব্যবস্থাপনা কমিটির বিবরণসহ সংশোধিত আবেদনপত্র পুনরায় নিবন্ধকের কাছে জমা দিলে প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে নিবন্ধনপত্র লাভ করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও