ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মধ্যস্বত্বব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে পদ্মাপাড়ের জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্যের জন্য একটি সমবায় সমিতি গঠন করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের অর্জিত মুনাফার পরিমাণ ছিল নিম্নরূপ :-
তারা বিধিবদ্ধ ন্যূনতম হারে সংরক্ষিত ও উন্নয়ন তহবিল সংরক্ষণ করে। তহবিলের টাকা হতে তারা ২৫,০০০ টাকা মূল্যের একটি নতুন ফ্রিজ ক্রয়ের জন্য চিন্তা করছে।
বছর | ২০১২ | ২০১৩ | ২০১৪ | ২০১৫
মুনাফা | ২০,০০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা | ৩০,০০০ টাকা | ৩৫,০০০ টাকা
- ক)(1)
সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
সমবায়ের সাম্যের নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
পদ্মাপাড়ের জেলেরা কোন ধরনের সমবায় সমিতি গঠন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তহবিলের টাকায় তারা কি ফ্রিজ ক্রয় করতে পারবে? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে সমমনা ও সমশ্রেণির ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমবায় আইনের আওতায় গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ব্যবসায় সংগঠনকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায়ের সাম্যের নীতি বলতে সমিতির সকল সদস্যের সমান মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থাকাকে বোঝায়।
সমবায় সমিতিতে সদস্যদের শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ কম-বেশি হলেও প্রত্যেকের কেবল একটিই ভোটদানের অধিকার থাকে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা মূলধন বিনিয়োগ নির্বিশেষে সকল সদস্য সমান চোখে দেখা হয় এবং সমিতির ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেকে সমান গুরুত্ব ভোগ করে। একেই সাম্যের নীতি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পদ্মাপাড়ের জেলেরা 'মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি' বা 'উৎপাদক সমবায় সমিতি' গঠন করেছে।
যে সমবায় সমিতি সমাজের সমজাতীয় পেশার ক্ষুদ্র উৎপাদক বা পেশাজীবীদের স্বার্থরক্ষা ও পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়, তাকে উৎপাদক/পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি বলে। বিশেষ করে মৎস্য শিকারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের কল্যাণ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পেতে যে সংগঠন গড়ে তোলে, তা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পদ্মাপাড়ের জেলেরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে মাছের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে একটি সমিতি গঠন করেছে। জেলেরা একই পেশার ক্ষুদ্র মৎস্য উৎপাদনকারী বা শিকারী। তারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে কাজ করছে। তাই এটি একটি মৎস্যজীবী বা উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনগত বিধান ও তহবিলের জমার পরিমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংরক্ষিত তহবিলের টাকায় তারা ফ্রিজটি ক্রয় করতে পারবে।
বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী, প্রতি বছর অর্জিত নিট মুনাফার ন্যূনতম ১৫% সংরক্ষিত তহবিলে (Reserve Fund) এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে (Development Fund) জমা রাখা বাধ্যতামূলক। উন্নয়ন তহবিলের অর্থ কেবল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে ব্যয়যোগ্য, কিন্তু সংরক্ষিত তহবিল সমিতির আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে স্থায়ী সম্পত্তি অর্জনে বিনিয়োগ করা যায়।
উদ্দীপক অনুযায়ী চার বছরের মোট মুনাফা:
২০১২ সালে ২০,০০০ টাকা
২০১৩ সালে ২৫,০০০ টাকা
২০১৪ সালে ৩০,০০০ টাকা
২০১৫ সালে ৩৫,০০০ টাকা
মোট অর্জিত মুনাফা = (২০,০০০ + ২৫,০০০ + ৩০,০০০ + ৩৫,০০০) = ১,১০,০০০ টাকা।বিধিবদ্ধ ন্যূনতম ১৫% হারে সংরক্ষিত তহবিলের মোট জমার পরিমাণ = ১,১০,০০০ টাকার ১৫% = ১৬,৫০০ টাকা।
সমবায় উন্নয়ন তহবিল (৩%) = ১,১০,০০০ টাকার ৩% = ৩,৩০০ টাকা।
উভয় তহবিল মিলিয়ে মোট জমার পরিমাণ = ১৯,৮০০ টাকা।যদি শুধুমাত্র সংরক্ষিত তহবিল (১৬,৫০০ টাকা) বিবেচনা করা হয়, তবে ফ্রিজের মূল্য ২৫,০০০ টাকা হওয়ায় তা অপ্রতুল। আবার উভয় তহবিল মিলিয়েও মোট অর্থ দাঁড়ায় ১৯,৮০০ টাকা, যা ২৫,০০০ টাকার চেয়ে কম। উপরন্তু, উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ফ্রিজ ক্রয়ের মতো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আইনত সিদ্ধ নয়। অতএব, উক্ত তহবিলের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ২৫,০০০ টাকা মূল্যের নতুন ফ্রিজ ক্রয় করা সম্ভব হবে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও