পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মৌলিক অধিকার কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন দেশের সংবিধানকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য সংবিধানে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত মৌলিক সুযোগ-সুবিধাকে মৌলিক অধিকার বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধানের চার মূলনীতির একটি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে এই নীতিটি সন্নিবেশিত হয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ধর্মহীনতাকে বোঝায় না; বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এই নীতির আওতায় রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান করবে না, ধর্মের নামে কোনো প্রকার বৈষম্য বা নিপীড়ন থাকবে না এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার রোধ করা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সংবিধানকে নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ছকে একটি সংবিধানের তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে: 'লিখিত', 'সংসদীয় সরকার' এবং 'রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি'। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল। সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংসদীয় পদ্ধতির গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে জবাবদিহি থাকে। এছাড়া সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। উদ্দীপকে প্রদর্শিত বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় এটি বাংলাদেশের সংবিধানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. লিখিত সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এতে একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়: এটি সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়। সংবিধানের কোনো ধারা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
৩. সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার: সংবিধানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা সকল কর্মকাণ্ডের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৫. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও স্বাধীনতার জন্য মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তা বলবৎ করার বিধান রয়েছে।
৬. এককেন্দ্রীক শাসনব্যবস্থা: সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি একক ও অবিভাজ্য প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার কোনো প্রদেশভিত্তিক বণ্টন নেই।
৭. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: বাংলাদেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট, যার নাম 'জাতীয় সংসদ'। এতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ জন সদস্য থাকেন।
৮. সংবিধানের সর্বোচ্চ প্রাধান্য: সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে (অনুচ্ছেদ ৭)।
উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সংবিধান একটি গণতান্ত্রিক, জনকল্যাণমুখী ও প্রগতিশীল দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও