যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ব্যাহতার্থক পদ কী?
- খ)(2)
কোন ধরনের পদকে বিশিষ্ট পদ বলা যায়? বুঝিয়ে বলো ।
- গ)(3)
চিত্র-২ এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বিষয় দুটির আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পদ কোনো বস্তুতে এমন একটি গুণের বর্তমান অনুপস্থিতি নির্দেশ করে, যা স্বাভাবিকভাবে পূর্বে উপস্থিত ছিল বা ভবিষ্যতে উপস্থিত থাকার কথা, তাকে ব্যাহতার্থক পদ (Privative term) বলে। যেমন: অন্ধ, বধির, খোঁড়া ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পদ একই অর্থে একই সময়ে কেবল একটিমাত্র নির্দিষ্ট বস্তু, ব্যক্তি বা স্থানকে নির্দেশ করে, তাকে বিশিষ্ট পদ (Singular term) বলে।
বিশিষ্ট পদ কোনো সমজাতীয় শ্রেণির সকলকে না বুঝিয়ে কেবল একটি নির্দিষ্ট সত্তাকে নির্দেশ করে। বিশিষ্ট পদ দুই প্রকার হতে পারে: অর্থহীন বিশিষ্ট পদ (যেমন: রহিম, ঢাকা, হিমালয় ইত্যাদি সংজ্ঞাবাচক নাম) এবং অর্থপূর্ণ বিশিষ্ট পদ (যেমন: 'বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি', 'সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ' ইত্যাদি গুণবাচক বা বর্ণনামূলক পদ)। যেহেতু এ পদগুলো একটিমাত্র নির্দিষ্ট সত্তার ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়, তাই এদের বিশিষ্ট পদ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-২ এর সাথে পাঠ্যবইয়ের পদের 'জাত্যর্থ' (Connotation)-এর মিল রয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় কোনো পদ যে মৌলিক, অপরিহার্য ও সাধারণ গুণ বা গুণাবলিকে নির্দেশ করে, তাকে সেই পদের জাত্যর্থ বলে। জাত্যর্থ হলো পদের গুণের দিক।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এ দেখা যায়:
১. 'আম' পদের অপরিহার্য গুণ নির্দেশ করা হয়েছে 'আমত্ব'।
২. 'মিষ্টি আম' পদে গুণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে 'আমত্ব + মিষ্টিত্ব'।
৩. 'লাল মিষ্টি আম' পদে গুণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে 'আমত্ব + মিষ্টিত্ব + লালত্ব'।চিত্রটিতে বস্তু বা সংখ্যার পরিমাণের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত গুণের সমষ্টির বিস্তার দেখানো হয়েছে। পদের জাত্যর্থ ধারণার মূল কথাই হলো পদের অন্তর্নিহিত গুণের দিকটি প্রকাশ করা। অতএব, উদ্দীপকের চিত্র-২ সরাসরি পদের 'জাত্যর্থ'-কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকের চিত্র-১ নির্দেশ করছে পদের 'ব্যক্ত্যর্থ' (Denotation) এবং চিত্র-২ নির্দেশ করছে পদের 'জাত্যর্থ' (Connotation)। এদের পারস্পরিক সম্পর্কটি হলো 'ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী অনুপাত নিয়ম'।
যুক্তিবিদ্যায় ব্যক্ত্যর্থ বলতে পদের পরিমাণের দিক বা পদটি যেসব বস্তু বা সত্তার ওপর সমভাবে প্রযোজ্য তাদের সংখ্যাকে বোঝায় এবং জাত্যর্থ বলতে পদের সাধারণ ও আবশ্যিক গুণের সমষ্টিকে বোঝায়। এ দুটি প্রত্যয়ের সম্পর্ক বিপরীতমুখী, যাকে চারটি নিয়মে প্রকাশ করা হয়:
১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে: চিত্র-১ এ 'লাল মিষ্টি আম' থেকে ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যখন 'আম' হয় (সকল আম), তখন চিত্র-২ এ দেখা যায় জাত্যর্থ কমে কেবল 'আমত্ব'-এ এসে দাঁড়ায়।
২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে: চিত্র-১ এ 'সকল আম' থেকে ব্যক্ত্যর্থ কমে যখন 'সকল লাল মিষ্টি আম' হয়, তখন চিত্র-২ এ জাত্যর্থ বেড়ে হয় 'আমত্ব + মিষ্টিত্ব + লালত্ব'।
৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে: কোনো পদে নতুন গুণ যোগ করলে (যেমন চিত্র-২ এ আমত্ব থেকে লাল মিষ্টি আম) তার আওতাভুক্ত বস্তুর সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ সংকুচিত হয়ে যায় (চিত্র-১ এ দেখা যায় 'সকল লাল মিষ্টি আম'-এর পরিসর ছোট)।
৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে: গুণের সংখ্যা বাদ দিলে পদটির অন্তর্ভুক্ত বস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।অতএব, উদ্দীপকের চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর মাধ্যমে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের এই বিপরীতক্রমে হ্রাস-বৃদ্ধির পারস্পরিক নিয়মটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও