অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের পর সরকারি ব্যয়ের আওতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে অর্থনীতিবিদগণ দেশি-বিদেশি ঋণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলা ঘাটতি বাজেটে অর্থায়নসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য সরকার ঋণ গ্রহণ করে। এই ঋণ সাধারণত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে হয়ে থাকে যদিও "বৈদেশিক ঋণ, গ্রহীতা দেশের সার্বভৌম চিন্তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে।"
- ক)(1)
NBR-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
'প্রত্যক্ষ কর নাগরিক চেতনা বৃদ্ধিতে সহায়ক'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সরকারি ঋণের উদ্দেশ্যসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বৈদেশিক ঋণ সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NBR-এর পূর্ণরূপ হলো National Board of Revenue (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রত্যক্ষ কর নাগরিক সচেতনতা বা চেতনা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, কারণ এই কর ব্যক্তি সরাসরি নিজ আয় বা সম্পদ থেকে সরকারকে প্রদান করেন। করদাতা যখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন যে তাঁর কষ্টার্জিত অর্থের একটি অংশ সরকারি তহবিলে যাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের বাজেট, সরকারি ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর তাঁর নজরদারি বৃদ্ধি পায়। ফলে নাগরিকেরা নিজেদের অধিকার ও সরকারের জবাবদিহিতা সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়ে ওঠেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারি ঋণের নানাবিধ উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারের ব্যয় আয়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপক অনুসারে সরকারি ঋণ গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ: সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা কর রাজস্ব দিয়ে মেটানো সম্ভব হয় না।
২. জরুরি অবস্থা মোকাবিলা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা যুদ্ধাবস্থার মতো অপ্রত্যাশিত সংকট মোকাবিলায় দ্রুত অর্থের সংস্থান করতে সরকার ঋণ গ্রহণ করে।
৩. ঘাটতি বাজেটে অর্থায়ন: উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে ব্যয়ের চেয়ে আয় কম হওয়ায় বাজেট ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হয়।
৪. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার ঋণ গ্রহণ করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "বৈদেশিক ঋণ, গ্রহীতা দেশের সার্বভৌম চিন্তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে"—বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনেকাংশে যথার্থ।
সাধারণত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা (যেমন- IMF, বিশ্বব্যাংক) বা দাতা দেশগুলো অনুদান বা ঋণের সাথে নানাবিধ শর্ত বা নীতি সংস্কারের বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেয়। এর মধ্যে ভর্তুকি প্রত্যাহার, কর বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ইত্যাদি অন্যতম। অনেক সময় এসব শর্ত গ্রহীতা দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নে নিজস্ব স্বাধীনতা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে মেগা প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা হিসেবে বৈদেশিক ঋণ কার্যকর ভূমিকা পালন করলেও, অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে বর্তমান সময়ে নিজস্ব অর্থায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি (যেমন—পদ্মা সেতু নির্মাণ) এবং সতর্কতামূলক ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে সার্বভৌম স্বাধীনতা পুরোপুরি ক্ষুণ্ণ হয় না। তবুও বৈদেশিক ঋণের শর্তাবলী দেশের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া ও স্বায়ত্তশাসনকে চাপের মুখে ফেলে, তাই উক্তিটি যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও