ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. খান ও মি. জামান ঘনিষ্ঠ বন্ধু দুজনই 'কাঞ্চন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি-এর সাথে বিমা চুক্তিতে আবদ্ধ হন। মি. খান বাৎসরিক এককালীন প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন। তিনি ভুলক্রমে নমিনী নির্ধারণ করেন নি। মি. জামান কিস্তিতে প্রিমিয়াম জমা দেন। মি. খান ৫ বছর পর মারা গেলে তার স্ত্রী ও মি. জামান উক্ত বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি চেয়ে আবেদন করলে বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণে অপারগতা জানায়।
- ক)(1)
সমর্পণ মূল্য কী?
- খ)(2)
বিমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
কাঞ্চন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. মি. জামানের ক্ষতিপূরণ না দেয়ার পিছনে কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মি. খান বিমা চুক্তিতে কী ধরনের ত্রুটি বিদ্যমান রয়েছে বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেয়াদপূর্তির পূর্বেই কোনো জীবন বিমাপত্র বিমাগ্রহীতা কোম্পানিকে সমর্পণ করে চুক্তি বাতিল করলে বিমা কোম্পানি তাকে যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়, তাকে সমর্পণ মূল্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাকৃত বিষয়ে কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতি ঘটার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, কোনো মুনাফা অর্জন করতে দেওয়া নয়।
ক্ষতিপূরণ নীতির আওতায় বিমাগ্রহীতার কেবল প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই বিমাকারী কর্তৃক পরিশোধ করা হয়। বিমাগ্রহীতা যাতে ক্ষতির অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে লাভবান হতে না পারেন, সেজন্যই এ চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় (তবে জীবন বিমার ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের মূল্য অর্থ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না বলে এটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়, বরং নিশ্চয়তার চুক্তি)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাঞ্চন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. মি. জামানের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণ হলো জীবন বিমা কোনো ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার (মৃত্যু বা মেয়াদপূর্তি) অবসান না ঘটায় বিমা দাবি সৃষ্টি হয়নি।
জীবন বিমা হলো একটি নিশ্চয়তার চুক্তি, যা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে বা নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরিশোধিত হয়। এখানে নৌ বা অগ্নি বিমার মতো দুর্ঘটনাজনিত কোনো ক্ষয়-ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জামান কিস্তিতে প্রিমিয়াম জমা দেন এবং তিনি জীবিত রয়েছেন। তিনি কোনো মৃত্যু বা মেয়াদপূর্তির দাবি ছাড়াই শুধুমাত্র বন্ধু মি. খানের মতো আবেদন করায় কোম্পানি তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জীবন বিমায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অথবা মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ দাবি কার্যকর হয় না। তাই কোম্পানি তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে অপারগতা জানায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. খানের বিমা চুক্তিতে 'মনোনীতক বা নমিনী নির্ধারণ না করার' ত্রুটি বিদ্যমান রয়েছে।
জীবন বিমা চুক্তিতে বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা দাবির টাকা কে গ্রহণ করবে, তা নির্ধারণ করার জন্য বিমাপত্রে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নমিনী হিসেবে উল্লেখ করতে হয়। নমিনী উল্লেখ না থাকলে বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা অর্থ দাবি ও উত্তোলন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে মি. খান বাৎসরিক এককালীন প্রিমিয়াম দিয়ে চুক্তি করলেও ভুলক্রমে কোনো নমিনী নির্ধারণ করেননি। ফলে ৫ বছর পর তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী যখন বিমা দাবি করেন, তখন কোম্পানি আইনগত জটিলতার কারণে সরাসরি অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। নমিনী উল্লেখ না থাকায় মৃতের বৈধ উত্তরাধিকারী নির্ধারণে আইনগত উত্তরাধিকার সনদ (সাকসেশন সার্টিফিকেট) ইত্যাদি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে।
অতএব, মি. খানের বিমা চুক্তিতে নমিনী নির্ধারণ না করার মারাত্মক আনুষ্ঠানিক ত্রুটি বিদ্যমান ছিল, যার কারণে তার পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিমা দাবি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও