রসায়ন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কোয়ান্টাম সংখ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গ্লুবার লবণের দ্রাব্যতার উপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    কোয়ান্টাম সংখ্যাসমূহের মান হিসেব করে D শক্তিস্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ইলেকট্রনটির ধাপান্তরে সৃষ্ট বর্ণালির বর্ণ কীরূপ হবে? গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরমাণুতে উপস্থিত ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের আকার, আকৃতি, ত্রিমাত্রিক দিকবিন্যাস এবং ইলেকট্রনের নিজস্ব ঘূর্ণনের দিক প্রকাশের জন্য যে চারটি সংখ্যা ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্লুবার লবণের (Na2SO4·10H2O) দ্রাব্যতার ওপর তাপমাত্রার প্রভাব দ্বিমুখী:

    ১. প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে থাকলে ৩২.৪°C পর্যন্ত গ্লুবার লবণের দ্রাব্যতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। কারণ এ তাপমাত্রায় দ্রবণ প্রক্রিয়াটি তাপহারী।

    ২. তাপমাত্রা ৩২.৪°C এ পৌঁছালে গ্লুবার লবণ তার কেলাস পানি হারিয়ে অনার্দ্র সোডিয়াম সালফেটে (Na2SO4) পরিণত হয়। এরপর তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি করলে অনার্দ্র সোডিয়াম সালফেটের দ্রবণ প্রক্রিয়া তাপোৎপাদী হওয়ায় লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুসারে এর দ্রাব্যতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে নিউক্লিয়াসের বাইরে শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে:
    A = ১ম শক্তিস্তর (n = 1)
    B = ২য় শক্তিস্তর (n = 2)
    C = ৩য় শক্তিস্তর (n = 3)
    D = ৪র্থ শক্তিস্তর (n = 4)

    D শক্তিস্তরের জন্য প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n = 4।

    কোয়ান্টাম সংখ্যাসমূহের সাহায্যে হিসাব:

    ১. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা, l = 0, 1, 2, 3 (মোট 4টি মান, যা যথাক্রমে 4s, 4p, 4d, 4f উপস্তর নির্দেশ করে)।
    ২. ম্যাগনেটিক কোয়ান্টাম সংখ্যা, m:

    • l = 0 এর জন্য m = 0 (অরবিটাল সংখ্যা = 1টি)
    • l = 1 এর জন্য m = -1, 0, +1 (অরবিটাল সংখ্যা = 3টি)
    • l = 2 এর জন্য m = -2, -1, 0, +1, +2 (অরবিটাল সংখ্যা = 5টি)
    • l = 3 এর জন্য m = -3, -2, -1, 0, +1, +2, +3 (অরবিটাল সংখ্যা = 7টি)
      মোট অরবিটাল সংখ্যা = 1 + 3 + 5 + 7 = 16 টি (বা, n^2 = 4^2 = 16)।

    ৩. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা, s:
    প্রতিটি অরবিটালে বিপরীত স্পিনের দুটি ইলেকট্রন থাকতে পারে (s = +1/2 ও -1/2)।
    অতএব, D শক্তিস্তরের উপস্তরগুলোতে ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা:

    • 4s উপস্তরে: 2 × 1 = 2টি
    • 4p উপস্তরে: 2 × 3 = 6টি
    • 4d উপস্তরে: 2 × 5 = 10টি
    • 4f উপস্তরে: 2 × 7 = 14টি

    সুতরাং, D শক্তিস্তরে মোট ইলেকট্রন সংখ্যা = 2 + 6 + 10 + 14 = 32 টি (বা 2n^2 = 2 × 4^2 = 32)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রানুযায়ী, ইলেকট্রনটি ৫ম শক্তিস্তর (E স্তর, যেখানে n2 = 5) হতে ৩য় শক্তিস্তরে (C স্তর, যেখানে n1 = 3) স্থানান্তরিত হচ্ছে।

    রাইডবার্গ সমীকরণ অনুযায়ী:
    1/λ = R_H × (1/n1^2 - 1/n2^2)

    এখানে,
    নিম্ন শক্তিস্তর, n1 = 3
    উচ্চ শক্তিস্তর, n2 = 5
    রাইডবার্গ ধ্রুবক, R_H = 109678 cm^-1 = 1.09678 × 10^7 m^-1
    তরঙ্গদৈর্ঘ্য = λ

    সমীকরণে মান বসিয়ে পাই:
    1/λ = 1.09678 × 10^7 × (1/3^2 - 1/5^2) m^-1
    => 1/λ = 1.09678 × 10^7 × (1/9 - 1/25) m^-1
    => 1/λ = 1.09678 × 10^7 × (16 / 225) m^-1
    => 1/λ = 779932.44 m^-1
    => λ = 1 / 779932.44 m
    => λ = 1.282 × 10^-6 m
    => λ = 1282 nm

    যেহেতু তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ = 1282 nm, যা দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পাল্লা (৩৮০ nm - ৭৮০ nm) অপেক্ষা বেশি এবং অবলোহিত (IR) অঞ্চলের (৭৮০ nm থেকে ১ mm) অন্তর্ভুক্ত, তাই সৃষ্ট বর্ণালিটি দৃশ্যমান অঞ্চলের নয়। এটি হাইড্রোজেন বর্ণালির প্যাসচেন (Paschen) সিরিজের প্রথম সারির রেখা, যা অবলোহিত (Infrared/IR) অঞ্চলের অন্তর্গত। সুতরাং, উক্ত ধাপান্তরের ফলে সৃষ্ট রশ্মিটি খালি চোখে বর্ণহীন বা কোনো দৃশ্যমান বর্ণ দেখা যাবে না (এটি অবলোহিত রশ্মি)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন