ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী. মি. খান ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। বিমা পলিসিতে তিনি তার একমাত্র ছেলে মি. রাকিবকে উত্তরাধিকারী করেন। কিন্তু তিনি একটি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। চারটি প্রিমিয়াম প্রদানের পর মি. খান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু পরবর্তীকালীন মি. রাকিব বিমাদাবি পেশ করলে বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।

  1. ক)

    মৃত্যুহার পঞ্জি কী?

    (1)
  2. খ)

    জীবন বিমায় বোনাস দেওয়া হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মি. খান কোন ধরনের জীবন বিমা করেছিলেন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি মি. রাকিবকে বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায় কেন? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে গাণিতিক সারণির মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুহার, গড় আয়ু এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রদর্শন করা হয়, তাকে মৃত্যুহার পঞ্জি (Mortality Table) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুনাফাসহ জীবন বিমা পলিসির আওতায় বিমা কোম্পানির অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফার অংশ বিমাগ্রহীতাকে দেওয়ার জন্য বোনাস প্রদান করা হয়।

    জীবন বিমা কোম্পানিগুলো সংগৃহীত প্রিমিয়ামের উদ্বৃত্ত অর্থ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে। বছরান্তে মূল্যায়ন করে যদি দেখা যায় কোম্পানির সম্পদ দায়ের চেয়ে বেশি (অ্যাকচুয়ারিয়াল উদ্বৃত্ত), তবে সেই উদ্বৃত্ত মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ চুক্তির শর্তানুযায়ী লাভসহ বিমাপত্র গ্রহণকারীদের মাঝে বণ্টন করা হয়। এটিই বোনাস হিসেবে পরিচিত, যা বিমাগ্রহীতাদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে এবং নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. খান 'আজীবন জীবন বিমাপত্র' (Whole Life Policy) গ্রহণ করেছিলেন।

    যে জীবন বিমাপত্রে বিমাগ্রহীতার জীবদ্দশায় বিমাঙ্ক পরিশোধ করা হয় না, বরং বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার মনোনীত উত্তরাধিকারী বা নমিনিকে বিমাদাবির সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে আজীবন বিমাপত্র বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মি. খান ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিমা গ্রহণ করেন এবং তার একমাত্র ছেলে মি. রাকিবকে উত্তরাধিকারী (নমিনি) মনোনীত করেন। তিনি নিজে অর্থ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে এটি করেননি, বরং তার মৃত্যুর পর রাকিবের বিমাদাবি প্রাপ্তির প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি আজীবন বিমাপত্র ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. খান 'পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি' লঙ্ঘন করে দুরারোগ্য ব্যাধির তথ্য গোপন করায় বিমা কোম্পানি মি. রাকিবের বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও যুক্তিযুক্ত।

    বিমাচুক্তির মূল ভিত্তি হলো পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি (Principle of Utmost Good Faith)। এ নীতি অনুসারে, বিমাগ্রহীতা তার স্বাস্থ্য, পূর্ববর্তী ও বর্তমান রোগব্যাধি এবং জীবনের ঝুঁকি সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিমাকারীর কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য। কোনো তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য গোপন রাখলে বা অসত্য উপস্থাপন করলে বিমাচুক্তিটি বাতিল (void) হয়ে যায় এবং বিমাকারী বিমাদাবি প্রদানে বাধ্য থাকে না।

    উদ্দীপকে মি. খান বিমাপত্র গ্রহণের সময় দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তা বিমা কোম্পানির নিকট ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেন। এটি চুক্তির মৌল শর্তের সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। তিনি মাত্র চারটি প্রিমিয়াম প্রদানের পর মৃত্যুবরণ করেন এবং অনুসন্ধানে তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বিমা চুক্তিটি আইনত ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।

    অতএব, প্রতারণামূলক তথ্য গোপনের মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তি আইনগতভাবে কার্যকর থাকে না বিধায় বিমা কোম্পানি কর্তৃক উত্তরাধিকারী মি. রাকিবকে বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তটি নীতিগত ও আইনগতভাবে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন