বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কলিমদ্দি দফাদারের বোর্ড অফিস শীতলক্ষ্যার তীরের বাজারে। নদীর এপারে- ওপারে বেশ কিছু বড় বড় কল-কারখানা। এগুলো শাসনের সুবিধার্থে একদল খান সেনা বাজারসংলগ্ন হাই স্কুলটিকে ছাউনি করে নিয়েছে। কোনো কোনো রাত্রে গুলিবিনিময় হয়। কোথা হতে কোন পথে কেমন করে মুক্তিফৌজ আসে, আক্রমণ করে এবং প্রতি আক্রমণ করলে কোথায় হাওয়া হয়ে যায়, খান সেনারা তার রহস্য ভেদ করতে পারে না ।
- ক)(1)
'বর্ষাকালেই তো জুৎ'- কথাটি কে বলেছিল?
- খ)(2)
"রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইন্টার, আমাদের জেনারেল মনসুন"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটির শেষাংশের বক্তব্য 'রেইনকোট' গল্পের কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।"- তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বর্ষাকালেই তো জুৎ'- কথাটি বলেছিল নুরুল হুদার শ্যালক মুক্তিযোদ্ধা পটু বা ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইন্টার, আমাদের জেনারেল মনসুন"— কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, রাশিয়ার চরম শীত যেমন তাদের আক্রমণকারী শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাকৃতিক শক্তি হয়ে উঠেছিল, বাংলাদেশের বর্ষাকালও তেমনি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর জন্য একটি বড় হাতিয়ার ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রবল শীত ও তুষারপাতকে কাজে লাগিয়ে রুশ বাহিনী হিটলারের বাহিনীকে পরাস্ত করেছিল, যাকে বলা হতো 'জেনারেল উইন্টার'। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে বর্ষাকালের জল-কাদা, নদী-নালা ও বন্যা পাকিস্তানি সৈন্যদের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বিপরীতে, এ দেশের মুক্তিসেনারা বর্ষার সুবিধা কাজে লাগিয়ে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করত। তাই বর্ষাকে মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে 'জেনারেল মনসুন' বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটির শেষাংশের বক্তব্য 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের আকস্মিক ও গোপন গেরিলা আক্রমণ পদ্ধতির দিকটিকে নির্দেশ করে।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা হঠাৎ করেই তীব্র ও অতর্কিত গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও তাদের দখলকৃত এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করত। ঢাকা কলেজের মিলিটারি ক্যাম্পের ঠিক পাশে অবস্থিত জিমনেশিয়ামে গ্রেনেড ফাটিয়ে এবং বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নিমেষেই অদৃশ্য হয়ে যায়, যা পাকিস্তানি সেনাদের স্তম্ভিত করে দেয়।
উদ্দীপকের শেষাংশে বলা হয়েছে, শীতলক্ষ্যার তীরে বাজারসংলগ্ন হাই স্কুলের পাকিস্তানি সেনা ছাউনিতে মুক্তিযোদ্ধারা কোথা থেকে আসে, কীভাবে আক্রমণ করে এবং পাল্টা আক্রমণের সময় কীভাবে হাওয়া হয়ে যায়— খান সেনারা তার কোনো হদিস পায় না। এটি 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের সেই দক্ষ ও রহস্যময় গেরিলা কৌশলের প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে"— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের রহস্যজনক ও অতর্কিত গেরিলা আক্রমণের খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি সেনারা হাই স্কুলে ক্যাম্প করে ঘাঁটি গেড়েছিল এবং সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়শই গুলিবিনিময় করে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যেত।
অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পটির ব্যাপ্তি ও ভাবার্থ কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ ভীতু কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদা। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোট গায়ে জড়িয়ে সাধারণ ও কাপুরুষ নুরুল হুদার মানসিক রূপান্তর ঘটে। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম শারীরিক নির্যাতনের মধ্যেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ফাঁস না করে অসীম সাহস ও আত্মমর্যাদার পরিচয় দেন। রেইনকোটটি তাঁর কাছে হয়ে ওঠে দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের উষ্ণ প্রতীক।
উদ্দীপকে কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযানের কৌশলগত দিকটি এসেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মানসিক রূপান্তর, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং দেশপ্রেমের সেই গভীর তাৎপর্য অনুপস্থিত। সুতরাং, উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্র ভাব নয়, বরং কেবল গেরিলা আক্রমণের আংশিক বক্তব্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও