যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: সকল মুক্তিযোদ্ধা হন দেশপ্রেমিক। হামিদুর রহমান হন। একজন মুক্তিযোদ্ধা। সুতরাং হামিদুর রহমান হন একজন দেশপ্রেমিক।দৃশ্যকল্প-২: কৃষক মতিলাল হন পরিশ্রমী, কৃষক গণি মিয়া হন পরিশ্রমী, কৃষক সাদেক আলী হন পরিশ্রমী। সুতরাং সকল কৃষক হন পরিশ্রমী।
- ক)(1)
অমাধ্যম অনুমান কী?.
- খ)(2)
অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য হতে কম ব্যাপক হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন প্রকারের অনুমান নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ নির্দেশিত অনুমানে কোন ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবরোহ অনুমানে সার্বিক সত্য বা নিয়ম থেকে বিশেষ বা কম ব্যাপক সত্যে পৌঁছানো হয়। এতে সিদ্ধান্ত কখনোই প্রদত্ত আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক বা নতুন সত্য হতে পারে না। যেহেতু এর লক্ষ্য হলো আশ্রয়বাক্যের অন্তর্নিহিত তথ্যকে স্পষ্ট করা, তাই সিদ্ধান্তে কেবল আশ্রয়বাক্যে যা নিহিত ছিল তা-ই প্রতিফলিত হয়। এ কারণে অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য অপেক্ষা কম ব্যাপক কিংবা সমান ব্যাপক হয়, কিন্তু কখনোই বেশি ব্যাপক হতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ 'মাধ্যম অবরোহ অনুমান' নির্দেশিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা:
যে অবরোহ অনুমানে দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্যের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটি সরাসরি নিঃসৃত হয়, তাকে মাধ্যম অনুমান বলে। দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত অনুমানটি হলো:
সকল মুক্তিযোদ্ধা হন দেশপ্রেমিক। (প্রধান আশ্রয়বাক্য)
হামিদুর রহমান হন একজন মুক্তিযোদ্ধা। (অপ্রধান আশ্রয়বাক্য)
সুতরাং, হামিদুর রহমান হন একজন দেশপ্রেমিক। (সিদ্ধান্ত)এখানে সিদ্ধান্তটি একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে আসেনি, বরং 'মুক্তিযোদ্ধা' পদটির মাধ্যমে দুটি আশ্রয়বাক্য সংযুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এটি যুক্তিবিদ্যার একটি চিরায়ত মাধ্যম অবরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত (সহানুমান বা Syllogism)। এতে সার্বিক নিয়ম (সকল মুক্তিযোদ্ধা) থেকে একজন বিশেষ ব্যক্তি (হামিদুর রহমান) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অনুমান দুটির মধ্যে অনুমান পদ্ধতির প্রকৃতি, গতি এবং সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা নিয়ে মৌলিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
১. অনুমানের প্রকৃতির পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-১ এ অবরোহ অনুমান (Deductive inference) এবং দৃশ্যকল্প-২ এ আরোহ অনুমান (Inductive inference) নির্দেশিত হয়েছে।
২. গতির পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-১ এ অনুমানের গতি নিম্নমুখী—এখানে সার্বিক সত্য ('সকল মুক্তিযোদ্ধা হন দেশপ্রেমিক') থেকে বিশেষ দৃষ্টান্তে ('হামিদুর রহমান হন একজন দেশপ্রেমিক') যাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ অনুমানের গতি ঊর্ধ্বমুখী—এখানে মতিলাল, গণি মিয়া ও সাদেক আলীর মতো কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত ('সকল কৃষক হন পরিশ্রমী') গ্রহণ করা হয়েছে।
৩. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা: দৃশ্যকল্প-১ এ সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক বা সমান। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের তুলনায় অধিক ব্যাপক, কারণ কয়েকটি কৃষকের পর্যবেক্ষণ থেকে 'সকল কৃষক' সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে।
৪. সত্যতার ধরন: দৃশ্যকল্প-১ এর প্রধান লক্ষ্য আকারগত সত্যতা (Formal truth) অর্জন করা। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহ অনুমানে বাস্তব পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয় বলে এতে আকারগত ও বস্তুগত সত্যতা (Material truth) উভয়ই অর্জনের চেষ্টা থাকে।
৫. 'আরোহমূলক লম্ফ': দৃশ্যকল্প-২ এ জানা থেকে অজানায় যাওয়ার জন্য আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান, যা দৃশ্যকল্প-১ এর অবরোহ অনুমানে নেই।
অতএব, দৃশ্যকল্প-১ হলো অবরোহ অনুমান এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো আরোহ অনুমান, যা যুক্তিবিদ্যার দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও পরিপূরক অনুমান পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও