অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. মুহিম পড়ালেখা শেষে তার গ্রামের বাড়িতে গেল। সে উঠানে একটি গর্ত খুড়ে সেখানে পলিথিন বিছিয়ে পানি দিয়ে চৌবাচ্চা তৈরি করে এবং শিং মাছ চাষ শুরু করে। কয়েকদিনের মধ্যে মাছগুলো বড় হতে থাকে। খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণের জন্য সে অর্থাভাবে পড়ে। মুহিম তখন নিকটস্থ কৃষি ব্যাংকের সাথে ঋণের জন্য যোগাযোগ করে। কিন্তু ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি না থাকায় ব্যাংক ঋণ দেয় না। তখন সে গ্রাম্য মহাজনের নিকট যায়। মহাজন ঋণ দিতে চায় কিন্তু অধিক সুদের হার হওয়ায় সে মহাজনের ঋণ গ্রহণ করে না। মুহিম চিন্তা করে সরকার যদি ঋণ সরবরাহ উপকরণ ভর্তুকি ও বাজারজাতকরণে সহায়তা করতো, তাহলে তার মতো ভূমিহীনরাও কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখতে পারতো।
- ক)(1)
কৃষিঋণ কী?
- খ)(2)
মৎস্য চাষের দুটি উপকারিতা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ প্রাপ্তির সমস্যাসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভূমিহীন কৃষকদের সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকে আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিকাজ পরিচালনা এবং কৃষি খামারের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষক বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে কৃষিঋণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৎস্য চাষের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো:
১. প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ: মাছ আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি: বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং খামারিদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের ঋণ প্রাপ্তির প্রধান সমস্যাসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. জামানতের অভাব: প্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতা যেমন কৃষি ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি বা জমির দলিল জামানত হিসেবে দাবি করে। উদ্দীপকে মুহিমের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় সে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পায়নি।
২. প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের জটিল নিয়মাবলি: প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় ক্ষুদ্র কৃষকরা তা গ্রহণে ব্যর্থ হন।
৩. অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণে চড়া সুদের হার: প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না পেয়ে কৃষকরা বাধ্য হয়ে মহাজন বা ফড়িয়াদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রাম্য মহাজন অতিরিক্ত মাত্রায় সুদের হার দাবি করায় মুহিমের পক্ষে ঋণ নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির অন্যতম বড় বাধা।সুতরাং, উপযুক্ত জামানতের অভাব এবং মহাজনি ঋণের উচ্চ সুদ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তির প্রধান অন্তরায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমিহীন কৃষকদের কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয় রাখা এবং তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্দীপকের আলোকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. জামানতবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা: সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য দলগত জামানত বা সহজ শর্তে মাইক্রো-ক্রেডিট এবং বিশেষ কৃষিঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মুহিমের মতো উদ্যোক্তারা অর্থের অভাবে আটকে না যান।
২. কৃষি উপকরণে সরাসরি ভর্তুকি: মাছের পোনা, খাদ্য, সার, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খরচে সরাসরি ভর্তুকি বা ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা উচিত, যাতে উৎপাদন খরচ কমে আসে।
৩. সমবায় ভিত্তিক কৃষি ও আধুনিক প্রশিক্ষণ: ভূমিহীন কৃষকদের সমবায়ের অধীনে এনে যৌথ চাষাবাদ, আধুনিক মৎস্য চাষ পদ্ধতি এবং রোগবালাই দমনে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
৪. সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও মধ্যস্বত্বভোগী দমন: কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের জন্য সমবায় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক।পরিশেষে, ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং কৃষি উপকরণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করলেই তাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও