জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কায়াজমাটা কী?
- খ)(2)
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের কুফল লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্র দ্বারা কী নির্দেশ করে, তার ২য় ধাপের দশাগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্রটি যে গুরুত্ব বহনকরে তার পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১-এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে 'X' আকৃতির যে সংযোগ বা জোড়াস্থল তৈরি হয়, তাকে কায়াজমা (বহুবচনে কায়াজমাটা) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের ফলে কোষ বিভাজনের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং মারাত্মক ক্ষতিকর পরিণতি ঘটে:
১. টিউমার সৃষ্টি: কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন (যেমন- সাইক্লিন, CDK) বা জিনের ত্রুটির কারণে কোষ ক্রমাগত অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হয়ে কোষের পিণ্ড বা টিউমার সৃষ্টি করে।
২. ক্যানসার সৃষ্টি: অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকে ক্যানসার রোগের উৎপত্তি হয়। রক্তের বা লসিকার মাধ্যমে এই ক্যানসার কোষ দেহের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে মেটাস্ট্যাসিস বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি দ্বারা 'মায়োসিস কোষ বিভাজন' প্রক্রিয়া নির্দেশ করা হয়েছে। এতে ধাপ-১ হলো মায়োসিস-১ এবং ধাপ-২ হলো মায়োসিস-২।
মায়োসিস-২ মূলগতভাবে মাইটোসিসের অনুরূপ একটি সমীকরণিক বিভাজন। এর দশাগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রোফেজ-২: নিউক্লিয়াস থেকে জলবিয়োজন শুরু হয়, ক্রোমাটিন তন্তুগুলো সংকুচিত ও খাটো-মোটা হয়ে স্পষ্ট ক্রোমোজোম রূপ ধারণ করে। নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বিলুপ্ত হতে থাকে।
২. প্রো-মেটাফেজ-২: স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। ক্রোমোজোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের সাহায্যে স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হতে শুরু করে। নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়।
৩. মেটাফেজ-২: ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয়। প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে দুটি স্বতন্ত্র সেন্ট্রোমিয়ারে পরিণত হয় এবং দুটি অপত্য ক্রোমোজোম গঠিত হয়।
৪. অ্যানাফেজ-২: সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হওয়ার পর অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হতে থাকে। সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী এবং বাহুদ্বয় অনুগামী থাকে, যার ফলে ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I আকৃতি ধারণ করে।
৫. টেলোফেজ-২: ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুতে পৌঁছে জলযোজন ঘটে এবং ক্রোমোজোমগুলো আবার সরু ও জালিকার রূপ ধারণ করে। এদের ঘিরে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে। পরবর্তীতে সাইটোকাইনেসিসের মাধ্যমে মোট ৪টি হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত প্রক্রিয়াটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন। জীবজগতের অস্তিত্ব ও বৈচিত্র্য রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা রক্ষা: মায়োসিস বিভাজনে জননকোষে (গ্যামেটে) ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়। পরবর্তীতে নিষেক প্রক্রিয়ায় দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠিত হয়। যদি মায়োসিস না ঘটত, তবে বংশপরম্পরায় ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হতে হতে জীবদেহের ভারসাম্য নষ্ট হতো।
২. জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি: মায়োসিস-১-এর প্যাকাইটিন পর্যায়ে ক্রসিংওভারের মাধ্যমে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে অংশ বিনিময় ঘটে। এর ফলে নতুন জিনগত সমন্বয় তৈরি হয় এবং জীবের মধ্যে চারিত্রিক ভিন্নতা বা প্রকরণ (variation) দেখা দেয়।
৩. অভিব্যক্তিতে ভূমিকা: ক্রসিংওভারজনিত প্রকরণের মাধ্যমেই জীব পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে পারে, যা নতুন প্রজাতি সৃষ্টি তথা জৈব অভিব্যক্তির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
৪. জনুক্রম নিয়ন্ত্রণ: যেসব জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার আবর্তন ঘটে (জনুক্রম), মায়োসিস কোষ বিভাজনই সেই চক্রাকার আবর্তন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।সুতরাং, প্রজাতির নিজস্বতা রক্ষা, ক্রোমোজোম সংখ্যার সমতা বজায় রাখা এবং বিবর্তনের স্বার্থে উদ্দীপকের মায়োসিস প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও