বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লন্ঠন আর অন্য হাতে রশি নিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে এসে বললেন, ‘আম্মা আমার আর বাঁচার এতটুকু ইচ্ছে নেই। যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম, সে-ই যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল, তখন আমি বাঁচতে চাই না। আমিও মরতে চাই।' সালেহা বেগম বললেন, 'দেখো বউমা, এমন কথা বোলো না। তোমার শ্বশুরের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে আজও এই ঘর, এই সংসারকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কোনোদিন এই সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তাও করি নাই। তিনি যেদিন মারা গেলেন, বুকে পাথর বেঁধে সারাটি রাত তার পাশেই বসে ছিলাম। যাও বাড়ি যাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।' পাশেই বসে থাকা সালেহা বেগমের ছোটো সন্তান সোহাগ আলেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে, ভাবী তোমার হাতে লন্ঠন কেন?' আলেয়া খাতুন চট করে উত্তর দেন—'যদি সাপে কামড়ায়।’

  1. ক)

    ন্যাড়ার মাদুলি-কবচ কবরে দেওয়ার পরে তার কাছে আর কী অবশিষ্ট রইল?

    (1)
  2. খ)

    "ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়?আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে 'বিলাসী' গল্পে 'ইহা আর এক শক্তি'; উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।"— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ন্যাড়ার মাদুলি-কবচ কবরে দেওয়ার পরে তার কাছে শুধু একজোড়া লোহার মল অবশিষ্ট রইল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা সাপের কামড়ে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা মৃত্যু-আসন্ন বিলাসীকে বিষাক্ত ও নিস্তেজ হওয়ার পর যে বিবর্ণ, মলিন দেখাচ্ছিল, তা বোঝানো হয়েছে।

    সাপের বিষের প্রচণ্ড তীব্রতায় বিলাসী যখন বারবার বমি করছিল এবং তার সমস্ত শরীর নীল হয়ে আসছিল, তখন তার প্রফুল্ল মুখশ্রী মলিন হয়ে পড়ে। ফুলদানির পানিতে ভিজে থাকা বাসি ফুল যেমন সতেজতা হারিয়ে বিবর্ণ ও লাবণ্যহীন হয়ে পড়ে থাকে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া বিলাসীর অবস্থাও ঠিক তেমনি করুণ ও ম্রিয়মাণ দেখাচ্ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে 'বিলাসী' গল্পের নামচরিত্র 'বিলাসী'র গভীর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

    'বিলাসী' গল্পে দেখা যায়, বিলাসী তার স্বামী মৃত্যুপতিকে অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিকভাবে ভালোবাসত। সাপের কামড়ে যখন মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়, তখন স্বামীহারা বিলাসী সেই গভীর শোক ও বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারেনি। স্বামীর মৃত্যুর সাত দিনের মাথায় সে বিষপান করে আত্মহত্যা করে এবং স্বামীর চিরবিদায়ের পথ অনুসরণ করে।

    উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনও তার ভালোবাসার মানুষটি হারিয়ে যাওয়ার পর বেঁচে থাকার সব প্রেরণা হারিয়ে ফেলে। গভীর মনোকষ্টে সে দড়ি হাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার কথা বলে। ভালোবাসা হারানোর পর শোক সামলাতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার এই চরম ব্যাকুলতায় আলেয়া খাতুনের সাথে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে 'বিলাসী' গল্পে 'ইহা আর এক শক্তি'; উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।”— বিশ্লেষণটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

    'বিলাসী' গল্পে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রেমের যে অপ্রতিরোধ্য ও জীবনঘাতী শক্তির কথা বলেছেন, তার দৃষ্টান্ত হলো বিলাসী। বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর সেই শোকের ভার সহ্য করতে না পেরে আত্মবিসর্জনের পথ বেছে নেয়। প্রেম ও বিচ্ছেদের তীব্রতায় জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ার এই অলৌকিক, তীব্র ও সর্বগ্রাসী রূপকেই গল্পে 'ইহা আর এক শক্তি' বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা সাধারণ যুক্তি বা সংসারের নিয়ম মানে না।

    অপরদিকে উদ্দীপকের সালেহা বেগম সংসারধর্মী ও বাস্তববাদী মানসিকতার প্রতীক। তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের মায়াকে আঁকড়ে ধরে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ত্রিশ বছর ধরে বেঁচে আছেন। স্বামীর শোকে তিনি ভেঙে পড়লেও বুকে পাথর বেঁধে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আলেয়া খাতুনকেও জীবনের মূল্য বুঝিয়ে বাস্তববাদী হতে উপদেশ দিয়েছেন।

    সালেহা বেগমের চরিত্রে রয়েছে শোককে অতিক্রম করে বেঁচে থাকার ধৈর্য ও দৃঢ়তা, কিন্তু বিলাসীর মতো প্রেমের অন্ধ, আত্মঘাতী ও চরম রূপ সেখানে অনুপস্থিত। সুতরাং আত্মোৎসর্গের সেই আত্মবিনাশী প্রেমের তীব্রতার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে ‘ইহা আর এক শক্তি’ উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন